কিমের ক্ষেপণাস্ত্রে ক্ষুব্ধ ভারত

মিসাইল উৎক্ষেপণ নিয়ে জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে তোপ দাগল ভারত। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নতুন আন্তর্মহাদেশীয় মিসাইল ছুঁড়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি প্রস্তাবের বিরুদ্ধাচরণ করেছে কিমের দেশ।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ ও আমেরিকাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে আবারও মিসাইল উৎক্ষেপণ করে উত্তর কোরিয়া। ২০১৭ সালের পরে এত বড় ক্ষেপণাস্ত্র আর ছুঁড়তে দেখা যায়নি কিং জং-উনের দেশকে।

জাপান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে এই নতুন ধরনের আন্তর্মহাদেশীয় মিসাইল যাকে ICBM বলা হয়, সেটি ১ হাজার ১০০ কিমি দূরত্বেও নিখুঁত ভাবে নিশানা ভেদ করার ক্ষমতা রাখে।

৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতাতেও এটি কর্মক্ষম। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৪৭৫ কিমি উচ্চতায় ৯৫০ কিমি দূরত্বের পাল্লার মিসাইল ছুঁড়েছিল উত্তর কোরিয়া। এই ঘটনার পরই উত্তর কোরিয়া ও মিসাইল প্রযুক্তির অবাঞ্ছিত বিস্তার নিয়ে আলোচনায় বসে জাতিসংঘ।

এদিক জাতিসংঘের বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি টি এস তিরুমূর্তি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার মিসাইল উৎক্ষেপণের নিন্দা করছে ভারত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি প্রস্তাবের বিরুদ্ধাচরণ করেছে দেশটি। এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হবে। এই পদক্ষেপের প্রভাব বিশ্বের অন্য জায়গায়ও পড়বে।”

পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “এই উৎক্ষেপণের প্রভাব ভারতের উপরও পড়বে। ফলে আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ” তিনি আরও জানান, মানবিকতার খাতিরে উত্তর কোরিয়াকে ত্রাণ পাঠায় ভারত। কোনও কারণেই কোরীয় উপদ্বীপের শান্তি বিঘ্নিত হোক তা চায় না নয়াদিল্লি।

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উনকে বাগে আনতে লাগাতার চেষ্টা করছে আমেরিকা। আর্থিক নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নির্দেশে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অন্তর্ঘাত’ চলছে বলেও অভিযোগ।

কিন্তু কিমের পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমস্ত প্রয়াস ভেস্তে দিচ্ছে চীন ও রাশিয়া। সম্প্রতি মিসাইল উৎক্ষেপণ নিয়ে জাতিসংঘে পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব আনে আমেরিকা। কিন্তু মস্কো ও বেইজিংয়ের আপত্তিতে আপাতত সেই প্রস্তাব ঠান্ডাঘরে। সূত্র: টাইমস নাউ।