হঠাৎ আলোচনায় আওয়ামী লীগের জালাল-খোকন!

হঠাৎ আলোচনায় আওয়ামী লীগের জালাল-খোকন!

দুটি ভিন্ন ভিন্ন কারণে হঠাৎ আলোচনায় এসেছেন আওয়ামী লীগের দুই নেতা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এবং দক্ষিণের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। তারা দুজনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। তবে তারা এখন আলোচনায় এসেছেন দুটি ভিন্ন ভিন্ন কারণে। ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রী নেতা এবং তিনি ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়ে।

কিন্তু ২০০৭ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তিনি সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিত হন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি কোনঠাসা হয়ে পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। ঢাকা-৭ আসনের বাসিন্দা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন কিন্তু ওই আসনে আওয়ামী লীগের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পরিচিত হাজী সেলিমের কাছে সবসময় কোনঠাসা হয়ে থাকতেন।

এখন হাজী সেলিমের পুত্র ইরফান সেলিমের আটক এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় হাজী সেলিম কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। লালবাগের আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ এখন ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের হাতে চলে এসেছে। তবে এসময় তিনি প্রতিশোধ না নিয়ে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করে কাজ করার চেষ্টা করছেন। আর এই বিষয়টা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে এবং তিনি প্রশংসিত হচ্ছেন।

লালবাগে আওয়ামী লীগের দুটো ধরা ছিলো, একটা হাজী সেলিমের আর একটা ছিলো ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের। এখন হাজী সেলিম গা ঢাকা দিয়েছেন এবং ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন। এই অবস্থায় ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন হাজী সেলিমের লোকদের ওপরে প্রতিশোধ না নিয়ে বরং আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। যা সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

অন্যদিকে সাঈদ খোকন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র থাকা অবস্থায় তিনি আলোচিত-সমালোচিত এবং বিতর্কিত ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় দফায় তিনি মনোনয়ন না পেয়ে সান্তনা হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন। আওয়ামী লীগের কর্যনির্বাহী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণের প্রস্তাবিত কমিটির ব্যাপারে আপত্তি জানান সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন ওই কমিটিতে এমন কিছু লোকদের রাখা হয়েছে যারা ঢাকার ভোটারই না। সাঈদ খোকনের এই বক্তব্য আমলে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রস্তাবিত ওই কমিটিকে আরো যাচাই-বাছাই করার নির্দেশ দেন। এছাড়া সাঈদ খোকনকে প্রস্তাবিত ওই কমিটির নামগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ঢাকার ভোটারদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর ফলে মেয়রের পদ হারালেও ঢাকা দক্ষিণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন সাঈদ খোকন। দুই প্রজন্মের আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার একটা জায়গায় মিল রয়েছে, তারা দুজনই পুরান ঢাকার বাসিন্দা। ফলে ঢাকা দক্ষিণের রাজনীতিতে একটা নতুন মেরুকরণ হতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।