মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে একাট্টা সব দল!

মোদির দল বিজেপির বিরুদ্ধে একাট্টা সব দল!

৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই প্রথম নির্বাচন হতে যাচ্ছে কা’শ্মিরে। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের ২৮০ সদস্য নির্বাচিত করবেন ভোটদাতারা। জে’লাস্ত’রের নির্বাচন হলেও বিভিন্ন কারণে এই নি’র্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জম্মু ও কাশ্মিরে আগামী ২৮ নভেম্বরের এই নির্বা’চন ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল।

এই নির্বাচনে প্রতিটি আসনে এক দিকে আছে বিজেপি, অন্য দিকে বিরোধী জোট, যার মধ্যে ওমর আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্স, মেহবুবা মুফতির পিডিপি এবং কাশ্মিরের অন্য দ’লগুললো আছে। কং’গ্রেস তাদের সাথে আসন সমঝোতা করেছে। গুপকর জোটের ঘো’ষিত অ’বস্থান হলো, তারা ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরোধী।

এবারের নি’র্বাচন শুধু যে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম নির্বাচন তাই নয়, আরো কিছু দিক থেকে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। ৩৭০ ধারা বিলোপর পর কাশ্মিরের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, মেহবুবা মুফতিরা কেউ প্রায় এক বছর, কেউ তারও বেশি সময় ধরে ব’ন্দী অ’বস্থায় কা’টিয়েছেন।

মুক্তি পাওয়ার পর তারা একজোট হয়েছেন। এই প্রথমবার হাত মিলিয়েছেন ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি। তাদের জোটে সিপিএমও আছে। তারা ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরুদ্ধে এবং জ’ম্মু ও কা’শ্মিরকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার বিরোধী। জেলার নির্বাচন হলেও সেই বিষয়গুলোই তারা তুলবেন।

ডয়েচে ভেলের সাংবাদিক সালাউদ্দিন বলেন, ‘এমনিতে কাশ্মিরে ৩৭০ ধারা বিলোপ ও দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা নিয়ে মানুষের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষতে এখনো প্র’লেপ পড়েনি। তবে গুপকর জোট লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই কারণে যে, তারা না লড়লে বিজেপি প্রার্থীরাই জিতে যেতেন।

পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। বিরোধী দলগুলো বয়কট করায় বিজেপি প্রার্থীরাই সব আসনে জিতেছেন। জেলার ক্ষেত্রে সেটি হতে দিতে চায়নি গুপকর। কাশ্মিরে এমনিতে খুব কম ভোট পড়ে। দুই-তিন শতাংশের মতো। সে ক্ষেত্রে গুপকর জোটের প্রার্থীদেরই জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।’

দিল্লির সাংবাদিক ও মানবাধিকাররক্ষা কর্মী আশিস গুপ্ত জানিয়েছেন, গু’পকর ল’ড়ছে বলেই জেলাস্তরের নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর ৩৭০ ধারা বিলোপের পর প্রথম নির্বাচনে কাশ্মিরিরা কী রকম প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। গুপকরের সাথে জোট বেঁধে লড়ছে কংগ্রেস। আর সাথে সাথে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে, কংগ্রেস জাতীয়তাবিরোধী।

কারণ, গুপকর জোটের সাথে হাত মেলানো মানেই জাতীয় স্বার্থের বিরোধিতা করা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গুলাম আহমদ মির বলেছেন, ‘আমরা গুপকরের সাথে আসন সমঝোতা করেছি। কিন্তু একই কর্মসূচির ভিত্তিতে লড়ব কি না, তাদের জোটে শামিল হয়ে লড়ব কি না, তা এখনো ঠিক হয়নি। হঠাৎই ভোটের ঘোষণা হয়েছে। তাই সেই সময় পাওয়া যায়নি।’

প্রথম পর্যায়ের আসনগুলোতে কংগ্রেস নিজের প্রার্থী আলাদাভাবে জানিয়েছিল; কিন্তু দ্বিতীয় পর্বের প্রার্থীর নাম গুপকরের হয়ে ফারুক আবদুল্লাহ ঘোষণা করেছেন। সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীদের নামও আছে। তবে বিজেপির প্রচারের পর কংগ্রেস গুপকরের সাথে কী রকম সম্পর্ক রাখবে তা নিয়ে কিঞ্চিৎ দ্বিধায় ফারুক।

এই প্রথমবার কাশ্মিরে ভোট দিতে পারবেন পাকিস্তান থেকে আসা উদ্বাস্তুরা। ১৯৪৭ সালে জম্মুর সীমান্তবর্তী এলাকায় এসেছিলেন এই হিন্দু ও শিখ উদ্বাস্তুরা; কিন্তু ৩৭০-এর জন্য তারা কখনো ভোট দিতে পারেননি। এবার পারবেন। তাদের সংখ্যা এখন প্রায় চার লাখ। এসব কারণেই কাশ্মির জেলা কাউন্সিলের ভোটও রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের নজর এখন সে দিকে।