ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব কি বেড়েই চলেছে?

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দূরত্ব কি বেড়েই চলেছে?

ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামী তিনি কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন মন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন নতুন সম্ভাবনা ও আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছেন। কিন্তু তার এই কর্মচাঞ্চেল্যের পরও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে যে টানাপোড়েন-অস্বস্তি তা বেড়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কূটনৈতিক মহল মনে করছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের যে টানাপোড়েন সেটি কেবল দুই সরকারের মধ্যে নেই বরং এটি জনগণের মধ্যে পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সম্প্রতি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ফ্রান্সে ব্যাঙ্গাত্বক কার্টুন নিয়ে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা এবং নিন্দার ঝড় বইছে।

এই সময় ভারতের পক্ষ থেকে ফ্রান্স এর পক্ষে সমর্থন করা এবং শুধু সমর্থনই নয় এটি নিয়ে হ্যাশট্যাগ প্রচারণা, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। এটি বাংলাদেশের ধর্মভীরু মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।

কূটনীতিকরা বলছেন, দুই দেশের সম্পর্কের মূল উৎস হলো জনগণ। সরকার এবং সরকারের সম্পর্ক যতই গভীর হোক বা দুই সরকারের মধ্যে যত ধরনের চুক্তি হোক না কেন, জনগণের মধ্যে যদি সম্পর্ক সুন্দর না হয়। জনগণ যদি পারস্পরিক আস্থা বিশ্বাস, সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধন না হয় তাহলে সে সম্পর্ক ভালো বলা কঠিন।

বিশ্লেষকরা এটাও মনে করেন যে, এ ধরনের সম্পর্ক টেকসই হয়না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ক্রমশই ভারতের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং মনোভাবের ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। ফ্রান্স এর পক্ষে ভারতের অযাচিত অবস্থান সেরকম একটি ধারণাকেই বাড়িয়ে দিয়েছে।

এর কিছুদিন আগেই মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জন্য ভারত সাবমেরিন দিয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে কূটনৈতিক ল’ড়াই করছে, সেই লড়াইয়ে ভারত-বাংলাদেশের পাশে না থাকে বরং প্র’চ্ছন্নভাবে মি’য়ানমা’রের সামরিক জা’ন্তা সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে একধরনের উৎ’কণ্ঠা এবং উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, মি’য়ানমা’র যে দেশগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতায় বাংলাদেশের ওপর রো’হি’ঙ্গা ইস্যুটি চাপিয়ে দিতে চাইছে সে দেশগুলোর অন্যতম একটি হলো ভারত। মিয়ানমার ইস্যুর পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় আছে, যে বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশের জনগণ উদ্বিগ্ন। ভারতের কিছু কিছু আচরণে বাংলাদেশের জনগণ মনে করছে যে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করছে না। এর মধ্যে পুরনো কিছু বিষয় আছে।

যেমন সীমান্ত হত্যা: দুই দেশের সীমান্ত হত্যা নিয়ে বারবার সীমান্ত হত্যা বন্ধের অঙ্গীকার করা হলেও এখন পর্যন্ত সেটি নিয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়নি।

পেয়াজ সঙ্কট: বাংলাদেশে পেঁয়াজ সংকট এবং বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার পেছনে অনেকে ভারতকে দায়ী করছে। মনে করা হচ্ছে যে, ভারত যদি হুট করে এভাবে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ না করতো তাহলে বাংলাদেশে পিঁয়াজের এরকম উর্ধগতি হতো না।

তাছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরনো ইস্যুগুলো সমাধানের ব্যাপারে তাগিদ অনুভব করছে জনগণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে এমনিতেই ভারতবিরোধী মনোভাব কাজ করে। কিন্তু এই মনোভাবটা অনেকটাই ইতিবাচক হয়েছিল গত এক দশকে।

বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি, সীমান্তে ছিটমহল বিনিময় ইত্যাদি কারণে দু`দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং বিশ্বাস অর্জিত হয়েছিল । কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকেই যতই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের কিছু কিছু কার্যক্রম এবং ঘটনার ফলে জনগণ ততই দূরত্ব অনুভব করছে। আর দূরত্ব কাটাতে হবে ভারতকেই সুনির্দিষ্ট কিছু কাজ এবং নিদর্শন স্থাপন করে।সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।