বাইডেনের জয় ; চীন এখনো নিশ্চুপ !

বাইডেনের জয় ; চীন এখনো নিশ্চুপ !

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তিক্ত। বাণিজ্যযুদ্ধ, গোয়েন্দাবৃত্তিসহ নানা অভিযোগে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে এই দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্কে মারাত্মক অবনতি হয়েছে। ফলে ৩রা নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীনের প্রতিক্রিয়া কি সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি পর্যবেক্ষকদের।

শনিবার জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো অভিনন্দন বা বার্তা পাঠানোর কথা জানা যায়নি।

তবে এর আগে কয়েকটি রাজ্যে ভোট গণনা বাকি থাকতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। তার এমন ‘অন্যায্য’ দাবি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া উপহাস করেছে। এক টুইটে এমন বক্তব্যের জবাবে পিপলস ডেইলি টুইটে শুধু লিখেছে ‘হা হা’।সঙ্গে দুটি হাসির ইমোজি জুড়ে দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্ষমতার মেয়াদের প্রায় পুরোটা সময়ই চীনের সঙ্গে এক ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সম্পর্ক বজায় রাখেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে দীর্ঘদিন দেশটির সঙ্গে চলছে তার বাণিজ্যযুদ্ধ। আর সম্প্রতি তিনি টার্গেট করেছেন টিকটক এবং উইচ্যাট নামের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার জন্য চীনকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি এই ভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ নামে অভিহিত করেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিজনেস ইনসাইডার।

আরো পড়ুন:সহসাই পরাজয় মানবেন না ট্রাম্প!

সহসাই পরাজয় মেনে নিচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে নির্ধারিত হয়ে যায় যে, হোয়াইট হাউজের আগামী ৪ বছরের টিকেটজয়ী ডেমোক্রেট জো বাইডেন। কিন্তু রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার মিত্ররা একটি কথা পরিষ্কার করেছেন।

তাহলো, সহসাই পরাজয় মেনে নেয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বেশ কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করে আসছেন কোনো প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে হেয় করতে। তিনি শনিবার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন আইনী কৌশলে অগ্রসর হবেন।

তিনি আশা করছেন, মঙ্গলবারের ভোটে বিজয়ী বাইডেনের জয় কিছু রাজ্যে উল্টে দিতে পারবেন আইনি লড়াইয়ে। কিন্তু ট্রাম্পের সহকর্মী এবং রিপাবলিকান মিত্ররা এখন পর্যন্ত তার এ কৌশলকে সমর্থন করেছেন অথবা তাদের আরেকটি অংশ নীরব রয়েছেন। শনিবার দুপুরের দিকে ট্রাম্পের নির্বাচর্নী প্রচারণা টিম ট্রাম্পের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

তাতে তিনি বলেছেন, এই নির্বাচনের প্রকৃত ঘটনা এখনও অনেক দূরে। জো বাইডেনকে কোনো রাজ্যেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়নি। আর তো খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন দূরের কথা।প্রসিডেন্ট ট্রাম্পের মিত্ররা এবং উপদেষ্টারা প্রাইভেটলি স্বীকার করেছেন নিউ ইয়র্কের সাবেক ব্যবসায়ী ট্রাম্পের নির্বাচনী ফল উল্টো দেয়া এবং হোয়াইট হাউজে অবিচল থেকে যাওয়া ক্রমশ ক্ষয়ে আসছে।

তবে তারা এ জন্য আইনি চ্যালেঞ্জের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেছেন। ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, তার উচিত নতুন করে ভোট গণনা করতে দেয়া । মামলায় যে অভিযোগই থাকুক না কেন। তাতেও যদি কোনো পরিবর্তন না হয় তাহলে তার উচিত পরাজয় মেনে নেয়া।

নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ট্রাম্পের নির্বাচনী শিবির এবং রিপাবলিকানরা বেশ কিছু মামলা করেছে। তার মধ্যে জর্জিয়া, মিশিগান এবং নেভাদার মামলা আমলে নিয়েছেন বিচারকরা। পেনসিলভ্যানিয়াতে বিচারকরা রিপাবলিকানদের পক্ষ নিয়েছেন এবং কিছু প্রাদেশিক ব্যালট একপাশে সরিয়ে রাখতে নির্শে দিয়েছেন।

সেসব ভোট গণনায় রিপাবলিকান পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, এসব আইনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বললেই চলে। ওদিকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য এরই মধ্যে রিপাবলিকানরা একটি তহবিল গঠন করেছেন। এতে জমা পড়েছে কমপক্ষে ৬ কোটি ডলার। হোয়াইট হাউজের আরেক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত প্রতিটি ভোট গণনা নিশ্চিত করা এবং এক্ষেত্রে স্বচ্ছতা দাবি করা।

উল্লেখ্য, শনিবার যখন পেনসিলভ্যানিয়ার ভোটের খবর প্রচার হচ্ছিল তখন ভার্জিনিয়ায় গলফ খেলছিলেন ট্রাম্প। সেখান থেকে তিনি যখন বিকেলে বেরিয়ে যান তখন সেখান থেকে দু’ ব্লক দূরে অপেক্ষমাণ ছিলেন ট্রাম্পের সমর্থকরা। ট্রাম্প এদিন যখন হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করেন, তখনও তার মাথায় ছিল ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা হ্যাট।

ওদিকে তিনি যদি মর্যাদার সঙ্গে পরাজয় স্বীকার করে বিদায় না নেন তাহলে তার লিগ্যাসি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে উদ্বিগ্ন রিপাবলিকানরা। তারা মনে করেন, এতে তার ভবিষ্যত রাজনৈতিক শক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে। কংগ্রেশনাল রিপাবলিকান একটি সূত্র বলেছেন, এর ফলে ২০২৪ সালে তার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নষ্ট হয়ে যাবে।