জয়ের দাড় প্রান্তে বাইডেন ; আনন্দে উৎফুল্ল ড. ইউনূস!

জয়ের দাড় প্রান্তে বাইডেন ; আনন্দে উৎফুল্ল ড. ইউনূস!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, তাতে এটি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে যে এই নির্বাচনে জো বাইডেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে যেহেতু এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তাই বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এখনো এই নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, কাউকে অভিনন্দন জানানো হয়নি। তবে এই নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে যিনি সবচেয়ে উল্লাসিত তিনিও হলেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস।

ড. ইউনুস এ নির্বাচনে জো বাইডেনের পক্ষে ছিলেন । তিনি অন্তত দুটি অনলাইন প্রচারণার জো বাইডেন কে ভোট দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। উল্লেখ্য যে, ঐতিহাসিকভাবেই ডেমোক্রেটদের সাথে ডঃ মুহাম্মদ ইউনূসের গভীর সম্পর্ক। ড. ইউনুস বিলক্লীন্টন এবং হিলারী ক্লীন্টনের পারিবারিক বন্ধু হিসেবে পরিচিত।

সেই সূত্রে জো বাইডেনের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। জো বাইডেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ খেতাব গ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও জো বাইডেনের আমন্ত্রণে তিনি অন্তত দুবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফর করেছিলেন। সেখানে তিনি সামাজিক ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার উপর বক্তব্য রেখেছিলেন।

এবারের নির্বাচনে শুরু থেকেই ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস জো বাইডেনের পক্ষে ছিলেন। জো বাইডেনের তহবিলেও ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস অর্থ দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। তবে তিনি কত অর্থ দিয়েছিলেন সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেয়নি। জো বাইডেনের এই নির্বাচনী প্রচারণায় ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস অনলাইনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

নির্বাচনে জো বাইডেনের কেন জেতা উচিত তার পক্ষে তিনি অন্তত তিনটি বক্তব্য রেখেছিলেন। আর এ কারণেই জো বাইডেন জয়ী হওয়ায় ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস উল্লসিত। এর আগেও গত নির্বাচনে মুহাম্মদ ইউনূস হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে প্রচারণা করেছিলেন। হিলারি ক্লিনটনের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন।

সে সময় তিনি বলেছিলেন যে, হিলারি ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট হলে বাংলাদেশে তার ক্ষমতা বাড়বে এবং তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ফিরে পাবেন। তবে শেষ পর্যন্ত হিলারির পরাজয় সে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। আর এবার অবশ্য হিলারি ক্লিনটন এবং বিল ক্লিনটনের সঙ্গে যে গভীর সম্পর্ক ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের, সে সম্পর্ক কোনোভাবেই জো বাইডেনের সঙ্গে নেই।

জো বাইডেন ডঃ ইউনূস ইস্যুতে কতটা সরব হবেন বা কতটা মাথা ঘামাবেন সেটাও একটা দেখার বিষয়। ডঃ ইউনূসের ঘনিষ্ঠরা মনে করেন, বাংলাদেশের ব্যাপারে না ইউনূসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ব্যবসা, বাণিজ্যের এবং লবিষ্ট ফার্ম রয়েছে। তিনি বিজিএমইর কোটার জন্য একবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভাড়াটিয়া লবিষ্ট হিসেবে কাজ করেছেন।

এছাড়াও যেহেতু মার্কিনক্ষমতাবলয়ে তার প্রভাব রয়েছে, সেজন্য তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা দেশ ও ব্যক্তির পক্ষে লবিং করেন। আর জো বাইডেন জেতার ফলে হয়তো তার লবিংয়ে কিছু সুবিধা হবে। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপের সুযোগ পাবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় রয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

কারণ জো বাইডেনকে প্রথমে মোকাবেলা করতে হবে, বিভক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্যা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। তাদের করোনা সংকট এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা সহ অন্যান্য বিষয়। আর এই সব ছাপিয়ে বাংলাদেশের একজন ব্যক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট কি প্রভাব বিস্তার করবেন তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।