গোপনে পরমাণু তৎপরতা চালাচ্ছে সৌদি আরব, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

গোপনে পরমাণু তৎপরতা চালাচ্ছে সৌদি আরব, ইরানের তীব্র প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ তুলে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে এ অঞ্চলের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছে ইরান। পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি করেছে দেশটি।

ভিয়েনায় জাতিসংঘ দফতরে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, সৌদি আরব যদি পরমাণু বোমা বানানোর পরিকল্পনা করে থাকে কিংবা নিজের গোপন পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএ’কে সহযোগিতা না করার জন্য অজুহাত খুঁজতে থাকে তাহলে এর জন্য তাদের মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি আরো বলেন, নিজের অপরাধ থেকে অন্যের দৃষ্টিকে দূরে সরিয়ে রাখা এবং ভীতি ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে বিশ্বজনমতকে ধোঁকা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতারকদের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে গরিবাবাদি বলেন, নিজের অপরাধী কার্যকলাপের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করবেন না।

সম্প্রতি জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিল আল জুবাইর বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা সম্ভব না হলে ওই অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখার অধিকার রয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব এটি খুব স্পষ্ট করে বলেছে যে, নিজেদের জনগণ এবং এ অঞ্চলের সুরক্ষার প্রয়োজনে সবকিছুই তারা করবে। আমরা বিশ্বাস করি ইরানিরা শুধু চাপের মুখেই সাড়া দেয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, পরমাণু কর্মসূচির নিয়ে সৌদি আরবের অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এসব অভিযোগের আড়ালে তারা আসলে নিজেদের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে। দুই বছর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি পরমাণু রিয়েক্টরসহ সাতটি পরমাণু কেন্দ্র উদ্বোধন করেন। তিনি সিবিএস নিউজ চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে দাবি করেছেন, তার দেশ পরমাণু বোমা বানানোর চেষ্টা করছে না কিন্তু ইরান যদি এ ধরনের পদক্ষেপ নেয় তাহলে সৌদি আরবও একই পদক্ষেপ নেবে। সূত্র : ইরনা।