ভয়ঙ্কর বিয়ের ফাঁদ ! শতাধিক তরুণী-কিশোরীর ন’গ্ন ছবি উ’দ্ধার!

ভয়ঙ্কর বিয়ের ফাঁদ ! শতাধিক তরুণী-কিশোরীর ন’গ্ন ছবি উ’দ্ধার!

অভিনবভাবে তরুণী-কিশোরীর ‘ব্যক্তিগত’ ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে নিয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হু’মকি দিয়ে প্র’তারণা করে আসছিলেন জাহাঙ্গীর আলী (৩২) নামে এক যুবক। নামে-বেনামে এখন পর্যন্ত তার সাতটি ফেসবুক আইডি ও সাতটি মোবাইল সিমকার্ড পাওয়া গেছে।

এসব ফেসবুকের প্রোফাইল পর্যালোচনা করে এরই মধ্যে শতাধিক তরুণীর ‘একান্ত ব্যক্তিগত’ ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে। শনিবার রাতে সিআইডির সাইবার সেন্টার মৌলভীবাজার জে’লা পু’লিশের সহায়তায় ওই এলাকার সরকার বাজার থেকে গ্রে’ফতার হয় জাহাঙ্গীর।

তার পরই বিভিন্ন প্র’তারণার কাহিনী বেরিয়ে আসতে থাকে তার। সিআইডির উচ্চপদস্থ এক কর্মক’র্তা জানান, জাহাঙ্গীর মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ছবি খুঁ’জে বের করেন। এ ছাড়া কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ইউরোপ-আমেরিকায় ঘুরতে গেলে তার ছবিও সংগ্রহ করেন তিনি।

এরপর জাহাঙ্গীর ওই প্রবাসী বাংলাদেশির ছবি দিয়ে নিজে ভু’য়া ফেসবুক আইডি তৈরি করেন। তারপর তরুণী-কিশোরীদের টা’র্গেট করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান তিনি। এরপর তাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর করেন।

কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর অবিবাহিত তরুণী-কিশোরীদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেন জাহাঙ্গীর। কৌশল হিসেবে তিনি বলতেন, বিয়ের পর হবু স্ত্রীকে ইউরোপে নিয়ে যাবেন। কোনো তরুণী তার প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে বিয়ের কথাবার্তা বলার পরামর্শ দিতেন।

তখন জাহাঙ্গীর বলতেন, তার পরিবারকেও বিয়ের বিষয়টি জানাতে হবে। এ জন্য তিনি ওই তরুণীর আরও কিছু ভালো ছবি চান। তখন হয়তো তরুণী বলতেন, তার ফেসবুক থেকে বাছাই করে ছবি নিয়ে নিতে। তবে জাহাঙ্গীর তার পরিবারের সবার সামনে উপস্থাপন করা যায়, এমন কিছু ছবি পাঠানোর প্রস্তাব করতেন।

বিয়ের বিষয়টি বি’শ্বাসযোগ্য করতে এভাবে টা’র্গেট করা তরুণীর ছবি নিতেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হলে ওই তরুণীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও মেসেঞ্জারে নিতেন। কিছুদিন পর আবার জাহাঙ্গীর জানাতেন, বিয়ে করার জন্য তিনি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছেন।

দু-এক দিনের মধ্যে তরুণীর বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলবেন। এমন কথোপকথনের মধ্যে টা’র্গেট করা তরুণীকে জাহাঙ্গীর ফোন করে জানান, হঠাৎ তার বাবা অ’সুস্থ হয়ে পড়েছে। দ্রুত ভিসা নিয়ে ভারতে যেতে হচ্ছে। কয়েক লাখ টাকা লাগবে।

সব টাকা জোগাড় হয়েছে। মাত্র ৪০-৫০ হাজার টাকার ঘা’টতি রয়েছে। এটা জানিয়ে ওই তরুণীর কাছে ৪০-৫০ হাজার টাকা চাইতেন তিনি। তখন হয়তো ওই তরুণী বলতেন, এতদিন ইউরোপে থাকার পরও কেন এই অল্প ক’টা টাকা তার মতো লোকের দরকার হবে।

তখন জাহাঙ্গীর বোঝাতেন, ঢাকায় ফেরত এসেই একটি গাড়ি ও ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছেন। তাই টাকা-পয়সা নিয়ে একটু ‘সমস্যা’য় রয়েছেন। এ বিষয়টি আবার বিশ্বাসযোগ্য করতে জাহাঙ্গীর বলতেন, যাতে টাকা দেওয়ার বিষয়টি ওই তরুণী তার মা-বাবাকে না জানান।

এতে হবু শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে তিনি ছোট হয়ে যাবেন। তখন অনেক তরুণী তাকে টাকা পাঠাতেন। আর যারা টাকা দিতেন না, তাদের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ভু’য়া আইডি তৈরি করতেন তিনি। আইডি তৈরির ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল ছিল তার।

টা’র্গেট করা তরুণীর ছবি দিয়ে ওই তরুণীর নামে একটি ভু’য়া আইডি তৈরি করে তার বন্ধুদের বলতেন আগের আইডি হ্যাক হয়েছে। যেন নতুন আইডিতে তারা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। এরপর ওই তরুণীর ছবি দিয়েই জাহাঙ্গীর আইডি তৈরি করে তরুণীর পরিচিতজনের কাছে ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করে তাকে ফাঁ’সাতেন।

এরই মধ্যে জাহাঙ্গীর যাদের ফাঁ’সিয়েছেন তাদের মধ্যে ছাত্রী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মেয়েও রয়েছেন। সিআইডির বিশেষ পু’লিশ সুপার মোল্যা নজরুল ই’সলাম বলেন, ‘পরিচয় গো’পন রেখে ছ’দ্মবেশ ধারণ করে প্র’তারণা করে আসছিল জাহাঙ্গীর। তার বি’রুদ্ধে ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে মা’মলা রয়েছে। তার সব ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হবে।’

সিআইডির অ’তিরিক্ত পু’লিশ সুপার খায়রুল আলম জানান, সম্প্রতি একজন ভু’ক্তভো’গী জাহাঙ্গীর সম্পর্কে লিখিত অ’ভিযোগ করেন। এরপর শনিবার রাতে তাকে গ্রে’ফতারের পর তার একাধিক আইডি বিশ্নেষণ করে এখন পর্যন্ত একশ’র বেশি তরুণী-কিশোরীর ন’গ্ন ছবি ও ভিডিও পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, প্র’তারক জাহাঙ্গীরের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগরের ফকিরাবাদে। এলাকায় তার কম্পিউটারের ব্যবসা রয়েছে। তবে ওই ব্যবসার আড়ালে প্রবাসী সেজে প্র’তারণার ফাঁ’দ তৈরি করে অর্থ উপার্জন করাই ছিল তার মূল কাজ।

জাহাঙ্গীরের একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। টা’র্গেট করা তরুণীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের একাধিক নম্বর সরবরাহ করতেন তিনি। আ’ইন-শৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনীকে ফাঁ’কি দিতে একেক সময় একেক এলাকায় মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সরবরাহ করতেন।