প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সিদ্ধান্তে আরেকটি ধাক্কা থেকে রক্ষা পেল সরকার !

প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সিদ্ধান্তে আরেকটি ধাক্কা থেকে রক্ষা পেল সরকার !

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক’ঠিন সময়ে দ্রুত সি’দ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। কঠিন সময়ে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দূ’রদশির্তার কারণে সরকার অনেক বি’পর্য’য় এবং সং’কট থেকে সহ’জেই উতরে যায়। তার সর্বশেষ প্রমাণ হলো হাজী সেলিমের পুত্রের ঘটনা। এই ঘটনাটি মা’রাত্ম’ক রূপ নিতে পা’রতো। দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সশ’স্ত্র বাহিনী এ ঘ’টনায় বি’রূপ প্রতি’ক্রিয়া দেখাতে পারতো।

কিন্তু শেখ হাসিনার দৃঢ়তা তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিচ’ক্ষ’তা এই সং’কট থেকে সরকারকে রক্ষা করেছে। গত রোববার সন্ধ্যায় হাজী সেলিমের গাড়িতে ছিলেন তার পুত্র ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। তারা যখন কলাবাগান ক্রসিং অতিক্রম করছিলেন সেই সময় সেই গাড়ির সঙ্গে ধা’ক্কা লাগে একটি মোটর সাইকেলের। ওই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন নৌ বাহিনীর একজন কর্মকর্তা।

তার স্ত্রীকে নিয়ে তিনি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। গাড়িটির সঙ্গে মোটর সাইকেলের ধা’ক্কা লাগার পর গাড়ি থেকে ইরফান সেলিমের দে’হরক্ষী, ইরফান সেলিম এবং ড্রাইভার নেমে আসেন। কোন রকম কথাবার্তা ছাড়াই নৌ বাহিনী ক’র্মকর্তাকে বে’ধড়ক পে’টা’তে শুরু করেন। তিনি বার বার তার প’রিচয় দিচ্ছিলেন এবং দুঃখ প্রকাশ করছিলেন।

কিন্তু সেদিকে ক’র্ণপা’ত করেনি উম্মত্ত ইরফান এবং তার দে’হরক্ষী’রা। এরপর পুলিশ ঘট’নাস্থলে আসে। পু’লিশের হস্ত’ক্ষেপে মোটর সাইকেল চালক এবং গাড়িসহ হাজী সেলিমের পুত্রকে থা’নায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। নজরে আসার সাথে সাথেই তিনি নির্দেশনা দেন যে ঘটনা ঘটেছে সে ঘ’টনায় অ’পরাধীদের শা’স্তি পেতে হবে।

একজন ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। সড়ক দুঘ’র্টনার বিষয়টি দেখার জন্য পু’লিশ আছে, ট্রা’ফিক আছে। একজন ব্যক্তি কেন মোটর সাইকেল আ’রোহীকে মা’রধ’র করবে। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষনিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষনিকভাবে ঘ’টনার ওপর নজর রাখতে থাকেন।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এরকম নির্দেশনার পরই ধানমণ্ডি থা’না হ’ত্যাচে’ষ্টা এবং মা’রধ’রের একটি মা’মলা দায়ের করে। সেখানে হাজী সেলিমের পুত্র ড্রা’ইভারসহ পাঁচজনকে আ’সামি করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘ’টনাটি অন্যদিকে মোড় নিতে পারতো।

কারণ নৌ বাহিনীর একজন ক’র্মকর্তাকে এভাবে রাস্তায় পে”টানো একটি ভ’য়ংক’র বা’র্তা বহন করে এবং এটি সশ’স্ত্র বাহিনীর ওপর বি’রূপ প্রভাব ফেলার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো। আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে অবসরপ্রাপ্ত একজন সেনা ক’র্মকর্তাকে হ’ত্যা’র পর সে’নাবাহিনীর মধ্যে কি ধর’ণের প্র’তিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

ওই ঘ’টনাও প্রধানমন্ত্রীর বিচ’ক্ষণতায় সামাল দে’ওয়া হয়েছিল। ওই ঘট’নার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সেনাপ্রধান ও পুলিশ প্রধানকে ঘট’নাস্থলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়ে ছিলেন। ঘট’নাস্থলে গিয়ে তারা দুই বাহিনীর মধ্যে যে, অস’ন্তুস বা অস্ব’স্তি তৈরি হয়েছিল তা নিরসন করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ওই ঘ’টনায় দ্রুত তদ’ন্ত ও বিচার কাজ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী নিজে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার পরিবারকে টেলিফোন করেন এবং সমবেদনা জানান। এ সকল ঘটনার মাধ্যমে একটি ক’ঠিন প’রিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছিল। মেজর সিনহা ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা। অন্যদিকে গত কালকের ঘটনায় নৌ-বাহিনীর যে কর্মকর্তা আ’হ’ত হয়ে’ছেন তিনি এখনো কর্ম’রত। কাজেই এটি সশ’স্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও ব্যা’পক প্র’তিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারত।

বিশেষ করে এমন একজন ব্যক্তির পুত্র এই ঘ’টনাটি ঘটি’য়েছে যার সম্পর্কের সমাজের বি’ভিন্ন স্তরের মানুষের নে’তিবাচক মনো’ভাব রয়েছে। আর সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, টানা তৃতীয় মেয়াদ এবং চতুর্থবারের মতো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে শেখ হাসিনা আইনের শাসন এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি কোন অপরাধ হলে, অনিয়ম হলে কে অপরাধ করেছে, কারা করেছে তা তিনি দেখছেন না। বরং অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তৎপর হচ্ছেন। তিনি নিজে পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। তার হস্তক্ষেপের কারণেই একটি গভীর সংকট উতরে গেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।