প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ; রক্ষা হচ্ছে না নিক্সন চৌধুরীর !

প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ; রক্ষা হচ্ছে না নিক্সন চৌধুরীর !

‘অনিয়ম, অন্যায়, প্রশাসনের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। যারাই প্রশাসনকে হু’মকি দেবে, তাদের বিরুদ্ধেই যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারো পরিচয় দেখা হবে না।’ এরকম নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আজ একটি অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।

গণভবনের একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, তাহলে কি গ্রেপ্তার হতে পারেন ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি নিক্সন চৌধুরী? টানা তৃতীয় মেয়াদে এবং মোট চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৮ তে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকেই দু’র্নীতি, অনিয়ম এবং অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে শেখ হাসিনা। দলের ভেতরে বাইরে যারাই অ’পক’র্ম করছে তাদের বি’রুদ্ধেই আইনের প্রয়োগ করা হচ্ছে। শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও বাদ যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও শুদ্ধি অ’ভিযানের প্রেক্ষাপটে বলেছেন ‘অন্যায়কারীর পরিচয় অন্যায়কারী।’ গত বছরের শুদ্ধি অভিযানে শেখ হাসিনা তার নিকটা’ত্মীয় ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ফুফাতো ভাই, শেখ মারুফকে গণভবনে ঢুকতে দেন নি।

সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুরে যে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর এক আত্মীয়ের ঘনিষ্ঠরাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাই, ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যে ‘হু’মকির’র ঘ’টনা এখন আলোচনা হচ্ছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে নিক্সন চৌধুরীও যে পার পাবেন না তা বলাই বাহুল্য।

নিক্সন চৌধুরীর হু’মকি এবং অশোভন আচরনের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন ফরিদুরের জেলা প্রশাসক এবং চরভদ্রাসনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে অভিযোগ তদন্তের জন্য। সরকারের একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের বি’রুদ্ধে দুটি অভিযোগ,

প্রথমত: তিনি নির্বাচন কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেছেন। নির্বাচন কমিশন এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছে। দ্বিতীয়ত: তিনি প্রশাসনকে হু’মকি দিয়েছেন। এটাও অপরাধ। এই দুই অ’ভিযো’গই তদন্ত হচ্ছে।

তদন্ত হলেই বোঝা যাবে, এই ঘ’টনায় কার দায় কতটুক। তবে, একটি সূত্র বলছে, নিক্সনের সাথে আওয়ামী লীগের এক হেভীওয়েট নেতার দ্ব’ন্দ্ব পুরনো। সাম্প্রতিক ঘ’টনায় ঐ হেভীওয়েট নেতা নিশ্চয়ই নিক্সনকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারেন।