নিজ দলের সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হাজী সেলিম!

নিজ দলের সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হাজী সেলিম!

পুত্রের ঘটনার পর হাজী সেলিম নীরব অবস্থায় রয়েছেন, তার কোনো কার্যক্রম নেই। ইতিমধ্যে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন হাজী সেলিমের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, হাজী সেলিমের অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুদক।

হাজী সেলিমের পুত্রের ঘটনার দিন কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই হাজী সেলিমের দখলে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের জমি উদ্ধার করে। ওই উদ্ধারকাজে কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নেয়নি ব্যাংকটি। এছাড়া গত দুদিনে হাজী সেলিমের অবৈধ দখলে থাকা দোকানপাটগুলোর মালিকরা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। তবে অনেকেই নিজ দায়িত্বে তাদের দোকান এবং জায়গা পূনরুদ্ধার করেছেন।

পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, এই ঘটনার পর লালবাগে হাজী সেলিমের রাজত্বের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এমনিতেই হাজী সেলিম শা’রী’রিকভাবে অসুস্থ। এই অবস্থায় তার রাজনীতিতে টিকে থাকা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেও হাজী সেলিমের সম্পর্ক ভাল না।

হাজী সেলিম তার নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমেই লালবাগের রাজনীতি পরিচালনা করতেন। লালবাগের স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা মূলত কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের অনুসারী। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগে হাজী সেলিমের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কি হবে সেটিই দেখার বিষয়।

তবে অন্য একটি সূত্র বলছে, এই ঘটনায় হাজী সেলিম ক্ষুব্ধ। তার ছেলের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলের কোনো সহযোগীতা না পাওয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট। হাজী সেলিমের স্ত্রী একাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকে বলেছেন, একটি তুচ্ছ ঘটনায় ভুল বোঝাবুঝিকে এত বড় করা অর্থ তিনি বুঝতে পারছেন না।

হাজী সেলিমকে যারা চেনেন তারা জানেন যে তিনি অনেক উ’ত্তেজিত এবং আবেগপ্রবণ একজন মানুষ। তিনি এর আগে একবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের র্শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথাবার্তার প্রেক্ষিতে তিনি সাঈদ খোকনকে ওই নির্বাচনে সমর্থন দেন।

পুত্রের ঘটনায় হাজী সেলিমের পরিবারের ভেতরের কাহিনীগুলো যেভাবে বেরিয়ে আসছে সেটা হাজী সেলিমকে বিব্রতকর পরিস্থিতে ফেলেছে। এরকম পরিস্থিতিতে হাজী সেলিম শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন কিনা তা নিয়েও লালবাগে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

কারণ হাজী সেলিমরা ক্ষমতাসীন দল করে কিছু পাওয়ার জন্য, অবৈধ কর্মতৎপরতা চালানোর জন্য। যদি অবৈধ তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে হাজী সেলিম কেন আওয়ামী লীগ করবেন? এ নিয়ে হাজী সেলিমের সহযোগীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে হাজী সেলিম হয়তো পদত্যাগের মত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না বরং এই অস্থায় চুপচাপ থেকে পরিস্থিতি ঠান্ডা হওয়ার সময় দিবেন। যারা সুযোগ সন্ধানী, অণুপ্রবেশকারী তারা এরকম কৌশলই অবলম্বন করেন।