নতুন চমক দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ?

নতুন চমক দিচ্ছেন শেখ হাসিনা ?

চার বারের প্রধানমন্ত্রী তিনি। টানা তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করছেন। অনেক সংকট এবং অনেক প্রতিকূল অবস্থাকে জয় করেছেন তিনি । তবে শেখ হাসিনা রাজনীতি যারা বিশ্লেষণ করেন যারা শেখ হাসিনার রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেন তারা জানেন যে, রাজনীতিতে তিনি সবসময় একটা চমক দেন।

যে কোন সংকট মোকাবেলার ক্ষেত্রে তিনি এমন একটি সমাধান নিয়ে আবির্ভূত হন যেটি তার বিরোধীপক্ষ কখনো চিন্তাও করেনি এবং যারা তাকে ঘায়েল করার কৌশল পরিকল্পনা করেছিলেন তাদের মাথার মধ্যেও ছিলনা; যে এরকম একটি সমাধান নিয়ে তিনি আসতে পারেন। আমরা তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এরকম বহু চমক দেখেছি।

একটি চমক সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত দিয়ে তিনি প্রতিপক্ষকে পরাভূত করেছেন শান্তি এবং সুশাসন ফিরিয়ে এনেছেন। আমরা যদি একটু পেছন ফিরে তাকাই তাহলে দেখব, নব্বই এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের পর বিএনপি ক্ষমতায় এলো আকস্মিকভাবে। কিন্তু শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা আব্দুস সামাদ আজাদকে দিয়ে প্রস্তাব দিলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের পক্ষে।

এটা ছিল রাজনীতিতে তার এক ঐতিহাসিক চমক। সেসময় বিএনপি এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়লো যে সংসদীয় সরকার গ্রহণ করা ছাড়া তার আর সামনে কোন বিকল্প ছিলনা। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি সংবিধানের মধ্যে থেকে কিভাবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার করা যায় তার একটি রূপরেখা দিলেন। এবং এই রূপরেখার ভিত্তিতেই সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তোলা হলো।

পান্থপথের জনসভায় দেয়া শেখ হাসিনার ওই রূপ রেখা ছিল বাংলাদেশের রাজনীতিতে আরেকটি চমক। আমরা যদি সাম্প্রতিক সময়ে দেখি ২০০৮ এর নির্বাচনের পর যখন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটলো এবং সেটি নিয়ে একধরনের অসন্তোষ এবং অস্বস্তি। তখন শেখ হাসিনা চলে গেলেন সেনানিবাসে। দরবারের সভায় উপস্থিত হয়ে চমকে দিলেন সবাইকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি একটি বিরল সাহসী চমকে দেয়ার মতো ঘটনা।

২০১৪ সালে যখন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি ফোন করলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। তাকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানালেন। এটি ছিল রাজনীতিতে একটি বড় চমক। এবং এই ডাকে বেগম খালেদা জিয়া সাড়া না দিয়ে তিনি বরং তার রাজনৈতিক মৃত্যু ডেকে আনলেন। একই সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের মধ্যেই খালেদা জিয়া হারালেন তার ছোট পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে।

কোকোর লাশ যখন গুলশানে আনা হলো তখন সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলে গেলেন গুলশানে বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে। খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে। কিন্তু তাকে ঢুকতে দেয়া হলো না গেট বন্ধ করে দেয়া হলো। একজন প্রধানমন্ত্রীকে এই অসম্মান পুরো জাতিকে হতবাক করে দিয়েছিলো।

কিন্তু শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তটি ছিল রাজনীতিতে একটা বিরাট চমক। এমনকি ২০১৮ এর নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি আসবে না তা নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা টানাপোড়ন সেসময় ডঃ কামাল হোসেন এর পক্ষ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিল। সে প্রস্তাব লুফে নিলেন শেখ হাসিনা।

প্রস্তাব লুফে নেয়ার দুই ঘণ্টা আগে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছিলেন, কিসের সংলাপ কার সাথে সংলাপে এ ধরনের সংলাপ হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে চমকে দিয়ে এই আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করলেন। এবং সেই সংলাপের মধ্য দিয়েই আসলে আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করেছিল।

খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা, বিএনপির মধ্যে হতাশা। আইনি পথে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছিল বিএনপি। তখন বেগম জিয়াকে অনুকম্পায় মুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরেকটি চমক সৃষ্টি করলেন। খতিয়ে দেখলে এরকম অনেক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। যে সিদ্ধান্তগুলো শেখ হাসিনা একা নিয়েছেন এবং অনেক ঝুঁকি নিয়ে নিয়েছেন। এবং এই সিদ্ধান্ত গুলোর মাধ্যমে রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেরুকরণ হয়েছে।

একটি বাক পরিবর্তন হয়েছে । এখন ধর্ষণ নিয়ে সারাদেশে উত্তেজনা উদ্বেগ; এরকম একটি পরিস্থিতিতে সবাই তাকিয়ে আছেন শেখ হাসিনার দিকে। তিনি কি চমক দেবেন এবং কিভাবে তিনি এ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করবেন এবং একটি রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনবেন।

আমরা জানি যে কঠিন সময় শেখ হাসিনা সবসময় শেখ হাসিনা জ্বলে ওঠেন। সব সময় তার দূরদর্শী রাজনৈতিক মেধার প্রকাশ ঘটে সংকটের সময়। অতীতে বার বার তিনি প্রমাণ করেছেন। কাজেই এবারও সকলে দেখার অপেক্ষায় শেখ হাসিনা কি চমক দিবেন।