আওয়ামী লীগের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন!

আওয়ামী লীগের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন!

সরকার বিরোধী নতুন একটি আন্দোলনের পদধ্বণী শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই নূরের নেতৃত্বে ছাত্র অধিকার পরিষদ শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এবং বেগমগঞ্জ অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচি তারা ঘোষণা করেছে। নয় দফা দাবীতে ছাত্রদের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের আন্দোলনের কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপি বাম মোর্চাসহ অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলো যুক্ত হবে এমন রাজনৈতিক পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে যে আন্দোলন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ কতটা প্রস্তুত। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি এখন এ ধরনের আন্দোলন মোকাবেলার ক্ষেত্রে কতটুক রযেছে। যে কোন একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে দুটি দিক থাকে। প্রথমত; রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করা। দ্বিতীয়ত; প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করা।

যদি একটি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশস্কা থাকে, জনগণের জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তাহলে সেটি প্রশাসনিকভাবে হস্তক্ষেপ করা হয় আইন প্রয়োগকারি সংস্থা শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কিন্তু যে কোনো রাজনৈতিক সরকারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা ।

রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শক্তিশালী সংগঠন এবং রাজপথে অবস্থান করা। গত ১২ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখব যে, আওয়ামী লীগ সব সময় বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির সময় অবস্থান গ্রহণ করেছে।

এবং সুবিন্যাস্ত সাংগঠনিক শক্তি থাকার কারণে পাড়ায় মহল্লায় আওয়ামী লীগের অবস্থান ছিল অত্যন্ত দৃশ্যমান। আর এ কারণেই ২০১৪ এবং ২০১৫তে সারাদেশে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হলেও ঢাকায় বিএনপি জামাতরা কোন বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি ।

এবং এটি শুধুমাত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে নয় বরং আওয়ামী লীগের নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি,জনবলের কারণেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এ ধরনের আন্দোলনকে মোকাবেলা করেছে। এখন আবার নতুন করে আন্দোলন হলে আওয়ামী লীগ কি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে পারবে? এই নিয়ে নানারকম গুঞ্জন হচ্ছে আর এ গুঞ্জনের কারণ হলো কিছু পরিস্থিতি এবং বাস্তবতা। এর মধ্যে রয়েছে:

১। ঢাকা মহানগরীর কমিটি হয়নি: এক বছর হতে চললো ঢাকা মহানগরের সম্মেলন হয়েছে কিন্তু পূর্নাঙ্গ কমিটি হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটির যে খসড়া তালিকা দেয়া হয়েছিল সেগুলো এখন যাচাই বাছাই চলছে। ফলে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে নেতা কর্মীরা সংঘটিত তাছাড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা এবং বিভক্তি কাজ করছে। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ভাবে কতটুকু মাঠে নামতে পারবে এ নিয়েও অনেকে সংশয় রয়েছে।

২। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দুর্বলতা: আওয়ামী লীগের রাজপথে আন্দোলন করার জন্য দুটি অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ছিল যুবলীগ এবং অন্যটি ছাত্রলীগ। এ দুটি সংগঠনের মহানগরে কমিটি নাই। আর ঢাকা মহানগর যুবলীগের লোকবল যোগাড় করা বা কর্মী সমাবেশ করার ক্ষমতা ছিল ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের।

যিনি এখন ক্যাসিনোর মামলায় আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এবং সম্রাটের অনুপস্থিতির ফলে ঢাকায় কর্মী সমাবেশের একটি বড় ধাক্কা আওয়ামী লীগ খেতে পারে বলে মনে করছে অনেকে । পাশাপাশি ঢাকায় যারা কর্মী বান্ধব নেতা ছিল যেমন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া,

জাহাঙ্গীর কবীর নানক ইত্যাদি তারাও নানা সমস্যার কারণে ঢাকার রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। ফলে এরকম আন্দোলন মোকাবেলা করার জন্য যে শোডাউন দরকার হবে সে শোডাউন করার মত শক্তি আওয়ামীলীগের কতটুক আছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

৩। নেতৃত্বদানকারী নেতার অভাব: ঢাকায় সব সময় আওয়ামীলীগের একজন গুরুত্বপুর্ণ জনপ্রিয় নেতা থাকতেন যার নেতৃত্বে ঢাকা শহরের কর্মীরা উজ্জীবিত থাকতো । যখন বিরোধী দলে ছিল তখন যেমন আন্দোলন করতে পারত আবার ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেও তাদের অবস্থান বিরোধী দলের জন্য একটা বড় চিন্তার কারন হতো।

কিন্তু সেরকম নেতা এখন ঢাকা মহানগরীতে নেই। আওয়ামী লীগে যাদের ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সভাপতি সম্পাদক করা হয়েছে তারা মাঠের নেতা নন এবং খুব জনপ্রিয় মুখও নন। এ পরিস্থিতিতে ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি কতটুকু আছে সেটি যেমন বিবেচ্য। তেমনি সারাদেশে রাজনৈতিক আন্দোলন রাজনৈতিক ভাবে প্রতিহত করার মতো শক্তি এবং কর্মী সমাবেশে সক্ষমতা আওয়ামী লীগের কতটুকু আছে সে নিয়ে কোনো কোনো মহল প্রশ্ন রয়েছে।