ভারত কি নেপালের রাষ্ট্রনীতি ঠিক করবেন : ক্ষু’ব্ধ নেপালের গর্জন

ভারত কি নেপালের রাষ্ট্রনীতি ঠিক করবেন : ক্ষু’ব্ধ নেপালের গর্জন

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে তার নিকটতম প্রতিবেশীদের নানা ইস্যুতেই দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যার কারণ নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে। ভারতের সব থেকে কাছের বন্ধু রাষ্ট্রগুলির অন্যতম বলে যে দেশটিকে মনে করা হত, সেই নেপালের সঙ্গেও বিগত কয়েক বছর ধ’রে সম্পর্কে টা’নাপো’ড়েন দেখা দিচ্ছে। অথচ ভারত আর নেপাল – দুই দেশেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

মে মাসে ভারতের প্রতির’ক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ধারচুলা থেকে চীন সীমান্তে লিপুলেখ পর্যন্ত একটি রাস্তা উদ্বোধন করেন। নেপালের দাবি ছিল যে ওই রাস্তা তাদের এলাকার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

তার আগে, ভারত শা’সিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য থেকে লাদাখকে যখন আলাদা করা হল, তারপর ভারত যে নতুন মানচিত্র প্রকা’শ করেছিল, তাতে লিপুলেখ আর কালাপানি- এই দুটি অঞ্চল ভারতের অন্তর্ভুক্ত বলেই দেখানো হয়েছিল।

এবছর, নেপাল তাদের দেশের একটি নতুন মানচিত্র প্রকা’শ করে, যেখানে, কালাপানি আর লিপুলেখ তাদের দেশের অংশ বলে দেখায়। তারপরেই দুই বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে সীমানা নিয়ে বিবা’দ আবারও সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গে নেপালের বিদেশমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গ্যায়ালি বলছিলেন, “নেপাল আর ভারতের মধ্যে সীমানা নিয়ে যে বিবা’দ রয়েছে, তা সমা’ধান করতেই হবে। যতদিন না এর মীমাং’সা হচ্ছে, ততদিন এই ইস্যুটা ফিরে ফিরে আসবে। সীমান্ত সম’স্যার সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্ক বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারবে না।”

প্রদীপ গ্যায়ালি বলেন, “ইতিহাসের যেসব অমীমাং’সিত সম’স্যা উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তমান সরকারের ওপরে এসে পড়েছে, সেগুলোর সমাধান করতেই হবে। কিন্তু নেপাল এটা চায় না যে সীমান্ত সম’স্যার কারণে দুই দেশের বাকি সব সম্পর্ক ব’ন্ধ হয়ে যাক। সেগুলোকে সচল রেখেই সীমান্ত সম’স্যা মেটাতে হবে, আবার অন্যদিকে লিপুলেখ এবং কালাপানি – এই ইস্যুটাও নেপালের সার্বভৌ’মত্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

সীমান্ত নিয়ে যখন দুই দেশের মধ্যে মতভে’দ চলছে, তার মধ্যেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি মন্তব্য করেছিলেন যে তাকে প’দচ্যু’ত করতে একটা ষ’ড়য’ন্ত্র চলছে দিল্লিতে আর কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসে। নেপালের বিদেশমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে সত্যিই কি নেপালের প্রধামন্ত্রীকে প’দচ্যু’ত করার ষ’ড়য’ন্ত্র করছিল ভারত?

প্রদীপ গ্যায়ালির জবাব ছিল, “আমার মনে হয় ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলগুলোতে ওই সময়ে যে ধ’রনের খবর প্রচারিত হচ্ছিল, তার দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। নেপালের পক্ষে খুবই অ’পমা’নজনক খবর দেখানো হচ্ছিল নিয়মিত। কোনও দেশের অভ্য’ন্তরীন বিষয়ে অথবা সেদেশের সরকারের সামনে যে স’ঙ্ক’ট চলছিল, তা নিয়ে এধ’রনের খবর কেন দেখানো হবে!”

প্রদীপ কুমার গ্যায়ালি বলেন, “অন্য দেশের সংবাদমাধ্যম বা সেখানকার কথিত বুদ্ধিজীবিরা কি নেপালের বিদেশনীতি তৈরি করে দেবেন? তারা ঠিক করবেন নাকি যে নেপাল কোন দেশের সঙ্গে কীরকম সম্পর্ক রাখবে? নেপালের বিদেশনীতি কোনও দ্বিতীয় বা তৃতীয় দেশ তৈরি করে দেয় না।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের একাংশের বি’রু’দ্ধে নেপাল-বিরো’ধী খবর নিয়মিত প্রচার করার জন্য বেশ কয়েকবছর আগে কয়েকটি ভারতীয় চ্যানেল নেপালে নি’ষি’দ্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময়ে ভারত থেকে নেপালের কোনও পণ্যবাহী ট্রাক যেতে দেওয়া হচ্ছিল না – পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় যেসব পণ্যের জন্য ভারতের ওপরেই তারা নির্ভরশীল, সেগুলোর সরবরাহ ব’ন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মি. গ্যায়ালি বলেন, ”সেটা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রথম দফার সরকারের সময়ে। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের দুটো দিক আছে। একটা দিকে অবকাঠামো উন্নয়নের মতো খাতগুলোতে যখন দুই দেশের মধ্যে খুব ভাল কাজ হচ্ছে, নেপালের ভূমিকম্পের পরেও ভারত খুব সাহায্য করেছিল। আবার পেট্রলিয়াম পাইপলাইনের ব্যাপারেও ভারতের সহযোগিতা পাচ্ছে নেপাল।”

প্রদীপ গ্যায়ালি বলেন, কিন্তু অন্যদিকে বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে জ’টিলতাও আছে – সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত বি’বা’দ। আর এটাও ভু’ললে চলবে না মি. মোদীর প্রথম দফায় সরকারে থাকার সময়েই কিন্তু অব’রু’দ্ধ করে রাখা হয়েছিল নেপালকে। ধর্মকে দেশের অভ্য’ন্তরী’ন বিষয়ে যেমন টেনে আনা উচিত নয়, তেমনই অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ধর্মীয় বিষয় আনা উচিত নয়। সূত্র : বিবিসি হিন্দি