আর কোনও বেয়াদপি সহ্য করা হবে না, চীনকে স্পষ্ট হু’মকি ভারতের!

আর কোনও বেয়াদপি সহ্য করা হবে না, চীনকে স্পষ্ট হু’মকি ভারতের!

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর শান্তি বজায় রাখতে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ায় বিশ্বাসযোগ্যতা ইতিমধ্যে হারিয়েছে বেইজিং। মুখে শান্তির কথা বলেও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে কিছু না কিছু ঘটিয়েই চলেছে শি জিনপিং প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে এবার কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লিও।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বেইজিংকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনা বাহিনীর বেয়াদপি বরদাস্ত করা হবে না। অতীত সমঝোতার কারণে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশে সেনার আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই টহলদারি দেওয়ার কথা।

কিন্তু নয়াদিল্লির বক্তব্য, যেভাবে কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই চীনা সেনারা ভারতীয় বাহিনীর ওপর হামলা চালাচ্ছে তাতে আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না সাউথ ব্লক। ভারতীয় বাহিনীকে বলে দেওয়া হয়েছে, আত্মরক্ষার জন্য তারা গুলি চালাতে পারে।

সাউথ ব্লকের এক সেনা কর্তা বলেন, দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল তাতে লাদাখ সীমান্তে প্রতিটি টহলদারি বাহিনীতে ১৫ থেকে ২০ জনের বেশি জওয়ান থাকার কথা নয়। কিন্তু শর্ত ভেঙে চীনা সেনারা এক সঙ্গে অনেকে মিলে চলে আসছে। তারপর ভারতীয় টহলদারি বাহিনীর ওপর হা’ম’লা চালাচ্ছে।

লাঠি, পাথর, পেরেক লাগানো মুগুর দিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে তারা। গত জুন মাসে ও পরে আগস্টের শেষে এভাবেই তারা হা’ম’লা চালিয়েছে। কিন্তু এবার তা করতে গেলে গুলি দিয়ে জবাব দেবে ভারতীয় বাহিনী।

ভারত ও চীনের সেনা কমান্ডার স্তরে ষষ্ঠ রাউন্ডের বৈঠক শেষ হয়েছে। সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এদিন বলেন, “আগামী দিনে শান্তি কায়েমের পথ একটাই। সংঘাত কমাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং লাদাখে যেসব জায়গায় দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়েছে, সেখানে ধীরে ধীরে সেনা মোতায়েন কমানো।

কিন্তু ব্যাপারটা যে সেদিকে যাচ্ছে না সেই আশঙ্কা কূটনীতিক ও কৌশলগত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে চেপে বসছে। বরং তাদের অনেকেরই ধারণা শীত পড়ার অপেক্ষা করছে বেইজিং। লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর অঞ্চলে শীতে প্রকট ঠাণ্ডা থাকে। তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নিচে নেমে যায়। সেই সময়ে পায়ে পা দিয়ে ফের ঝগড়া বাধাতে পারে চীনা সেনাবাহিনী।