আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বে শেখ হাসিনা!

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বে শেখ হাসিনা!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ফোন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির ফোন, বাংলাদেশের প্রতি ভূটানের কৃতজ্ঞতা, শ্রীলঙ্কা সরকারের বাংলাদেশের প্রতি আস্থা- এই সবগুলো ঘটনা একসঙ্গে মেলালে দেখা যায় যে সার্ক অঞ্চলের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাভাজন নেতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন শেখ হাসিনা, নরেন্দ্র মোদি নন।

যে দেশগুলো নিয়ে সার্ক গঠিত, সেই দেশগুলোর সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র ভারত, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ভারত শুধুমাত্র উপমহাদেশ বা সার্ক অঞ্চলের নেতৃত্ব চায় না, বিশ্বে অন্যতম ক্ষমতাশালী পরাক্রম দেশ হিসাবে আবির্ভূত হতে চায়। সারাবিশ্বে যেন ভারতের খবরদারি থাকে এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়- সেটাই ‘ইনক্রেডিবল’ ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।

কিন্তু সারাবিশ্বের নেতৃত্ব তো দূরের কথা, এখন সার্ক অঞ্চলের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয় ভারত। বরং সার্ক অঞ্চলে ক্রমশ একঘরে হয়ে যাচ্ছে ভারত। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ভারতের একত্ববাদনীতি, আধিপত্যবাদনীতি এবং হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে উপমহাদেশে ভারত যেমন তার সার্বজনীন ধর্মনিরপেক্ষতার চরিত্র হারাচ্ছে, তেমনি সার্ক অঞ্চলেও ভারতের আনুগত্য প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে।

নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে ভারত ক্রমশ সার্ক অঞ্চলে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে বলেও মনে করছে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সেখানে বাংলাদেশকে অনেক বন্ধুবৎসল এবং উদারগণতান্ত্রিক ও সকল মত পথের মানুষকে আশ্রয় আনার নীতির কারণে শুধু উপমহাদেশে সার্ক অঞ্চলে নয়, পুরো বিশ্বে বাংলাদেশ এখন একটি রোল মডেল রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার মূল রুপকার হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাম্প্রতিক সময় চীন সার্ক অঞ্চল এবং উপমহাদেশ নিয়ে একটি রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। যে কৌশলটি দৃশ্যমান। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভূটান, নেপালের সঙ্গে চীন সখ্যতা বৃদ্ধি করে অর্থনীতির লেনদেনের সুসম্পর্কের মাধ্যমে দেশগুলোকে ভারতের কর্তৃত্ব থেকে মুক্ত করতে চাইছে। আর এ কারণেই নেপাল এখন ভারতের চোখে চোখ রেখে কথা বলছে।

শ্রীলঙ্কায় ভারত বিরোধীতা তো অনেক আগে থেকেই। এমনকি ভূটানও এখন ভারতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতে কার্পণ্য করছে না। আর পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের খারাপ সম্পর্কের গল্প তো বহু পুরনো। আর এ কারণেই ভারতের কূটনীতিকরা মনে করছেন, চীনা কৌশলের কারণে উপমহাদেশে কোনঠাসা হয়ে পড়ছে ভারত।

শুধু উপমহাদেশ নয়, সার্ক অঞ্চলেও যে ভারতের কথাই শেষ কথা ছিলো সেই দিনও ফুরিয়ে আসছে। আর এখানেই সার্কের অন্যান্য দেশের সরকার প্রধানরা আস্থার জায়গা হিসাবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। পাকিস্তান- নেপালের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন কিংবা শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সেই ইঙ্গিতকেই বাস্তবায়িত করছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

বিশেষ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব কৌশল এবং তার মানবিক নীতি সার্ক অঞ্চলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে আস্থায় এনেছে এবং তারা সকলেই সার্কের সার্বজনীন নেতা হিসাবে শেখ হাসিনাকে পছন্দ করছেন। এ কারণেই কূটনীতিকরা মনে করছেন, ভারতকে চীন একঘরে করেনি।

বরং বিজেপি সরকারের নীতি কৌশল ভারতকে একঘরে করছে। আর শেখ হাসিনার উদারনীতি এবং সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনীতির কারণে সার্ক দেশগুলো এখন তার প্রতি আস্থা রাখছে। সাম্প্রতিক সময় যে সার্কের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা শেখ হাসিনাকে ফোন করছেন তা এই অঞ্চলের রাজনীতির মেরুকরণের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বলেই মনে করছে কূটনীতিক মহল।