শেখ হাসিনার কৌশলই সঠিক প্রমাণিত

শেখ হাসিনার কৌশলই সঠিক প্রমাণিত

বাংলাদেশে করো’না সং’কটের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করোনা মোকাবেলার কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছিলেন। সে সময় অনেকেই শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেছিলো। অনেকেই বলেছিলো এর ফলে বাংলাদেশে করো’না সং’ক্রম’ণ হয়তো অনেক বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিও ধ্বং’স হয়ে যাবে। বাংলাদেশ আবার ২০০১-০৬ সালের মতো একটি পরনির্ভর ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে। এই সময়ে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছিলো যে, আমাদের সব চিন্তা বাদ দিয়ে আগে লকডাউন দিতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণ হ্রাস না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এই লকডাউন রেখে আমাদেরকে আগে জীবন বাঁচাতে হবে। তারপর জীবিকার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সময়ে সম্পূর্ণ নতুন ও বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এখন ফিরে তাকালে দেখা যায় শেখ হাসিনার কৌশলই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। শেখ হাসিনার এই কৌশলের কারণে বাংলাদেশের করোনা থেকে যেমন ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে তেমনি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করতে পেরেছে। করো’না মোকাবেলার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ৫ কৌশল এখন শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে আলোচিত হচ্ছে। এই ৫ কৌশলগুলো কি ছিল?

১। লকডাউন নয় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে ছুটি: শেখ হাসিনা কখনো সারাদেশ লকডাউন দেন নাই, তিনি ২৫ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। সাধারণ ছুটিকে তিনি কয়েক দফা বাড়িয়েছিলেন। সাধারণ ছুটির মধ্যেই তিনি আস্তে আস্তে সীমিতভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করো’না সং’ক্রম’ণ শুরু হয়।

এই সময়ে লকডাউন দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু শেখ হাসিনা লকডাউন শব্দটি ব্যবহার করেন নাই। তিনি লকডাউন না দিয়ে জনগণের উপর আস্থা রেখেছেন এবং সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে অনেকে ছুটি মানেনি। বাংলাদেশে করো’না সং’ক্রম’ণ বিস্তৃত হয়েছে এবং শেখ হাসিনার কৌশল নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি।

কিন্তু অনেকেই হয়তো বুঝতে পারেনি যে, প্রায় ১৮ কোটি অধ্যুষিত মানুষের এই দেশে যে পরিমাণ লোক আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে, তা অনেক সহনীয়। সেইসাথে বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম ছিল। বরং করো’না প্রতিরোধ করার জন্য যেইটুকু সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার ছিল, সেইটুকু সতর্কতা অবলম্বন করেই তিনি কাজ করেছেন। শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে কর্মচাঞ্চল্য ও অর্থনৈতিক প্রাণপ্রবাহ সচল রাখার তত্ত্ব-ই আজ সারা বিশ্ব অনুসরণ করছে।

২। গরীব মানুষের জন্য সহায়তা: শেখ হাসিনা সম্ভবত বিশ্বের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি করো’না সং’ক্রম’ণের শুরুতেই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন এবং এই প্রণোদনার একটা বড় অংশ ছিল গরীব মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা। এর ফলে বাংলাদেশে এত দীর্ঘ করোনাকালেও কোন মানুষ না খেয়ে মারা যায়নি। মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দিতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। যার ফলে আমাদের দেশে অর্থনৈতিক সং’কটের কারণে দু’র্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। যেটি পাকিস্তান, ভারতসহ অনেক দেশেই হয়েছে।

৩। স্বাস্থ্যবিধির উপর গুরুত্ব দেওয়া: প্রথম থেকেই শেখ হাসিনা লকডাউন বা বি’চ্ছিন্নতার বদলে স্বাস্থ্যবিধিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সচেতনতা তৈরির কাজটিতে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি করতে গিয়ে তিনি মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে চলা, গণপরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা ইত্যাদির উপর জোর দেন।

যদিও প্রথমদিকে এগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতা এসেছিল। সেই সময় বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, বাংলাদেশে করো’নার ম’হামা’রী তৈরি হবে। কিন্তু আস্তে আস্তে জনগণ নিজেরাই সচেতন হয়েছে, নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেছে। যার ফলে বাংলাদেশে এখন করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করেছে। এর ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানার সুফল বাংলাদেশ এখন ভোগ করছে।

৪। যে কোন মূল্যে অর্থনীতিকে সচল রাখা: করো’নাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বড় কৌশল ছিল যে কোন মূল্যে অর্থনীতিকে সচল রাখা। এক্ষেত্রে প্রথম চ্যালেঞ্জ যেটি মোকাবেলা করেছেন তা হল বোরো ধান কাঁটা। এই বোরো ধান কাঁটা শেখ হাসিনার একক উৎসাহ এবং আগ্রহের কারণেই সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ বোরোতে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে।

যার ফলে খাদ্যের একটা স’ন্তোষজনক মজুত আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এটাকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা খুবই ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছে। এর পাশাপাশি অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন গার্মেন্টস, ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্প কারখানাগুলো খুলে যেন কাজ করা হয় তা তিনি করেছেন। এর ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ধাক্কা যত প্রকট আকার ধারণ করার কথা ছিল, সেই রকম হয়নি।

৫। ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা: প্রথম থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন করো’না থেকে বাঁচতে গেলে আমাদের সতর্ক হতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত ভ্যাকসিন না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের করো’নার সাথেই বসবাস করতে হবে। আর এই জন্য সরকার প্রথম থেকে ভ্যাকসিন যেন বাংলাদেশ আবিস্কার হলেই প্রথমদিকে পায় তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাতে মোটামুটি নিশ্চিত প্রথম যে দেশই ভ্যাকসিন আনুক না তা পেতে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে না।আর শেখ হাসিনার এই কৌশলের কারণেই বাংলাদেশ করো’নার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করো’নাকালীন এই সময়ে এখনো যে দেশগুলো অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রা’ণহা’নি কম রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে বলীয়ান, সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।