ভারত-নেপালের পানিতে দেশে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা

ভারত-নেপালের পানিতে দেশে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও ভারত নেপালের অতিবৃষ্টির পানি সরাসরি বাংলাদেশের ওপর দিয়ে নামার কারণেই এ বছর দেশে দীর্ঘমেয়াদী বন্যা হচ্ছে। যা আগস্টের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের।

তবে তা সর্বোচ্চ বিপদসীমা অতিক্রম করবে না। পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের থাকার ব্যবস্থা ও বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলছেন, বন্যার্তদের সহায়তায় প্রস্তুত সরকার।

প্রতিবছরই জুন, জুলাই ও আগস্টে বন্যায় তলিয়ে যায় দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা। তবে এ বছর উত্তরাঞ্চলের পর মধ্যাঞ্চলেও বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। সরকারি হিসেবে ইতিমধ্যেই বন্যায় আক্রান্ত দেশের অর্ধেকেরও বেশী জেলার প্রায় এক কোটি মানুষ।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত ভারত ও নেপালের পানি যমুনা ও পদ্মা হয়ে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের নদী দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে। এসব নদীর আশপাশের এলাকায় মজবুত বাঁধ না থাকার কারণে প্লাবিত হচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি নাও হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।

বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উজানে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। জামালপুর, শেরপুর সুনামগঞ্জ এসব জায়গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ তেমন নেই। আর কুড়িগ্রামে বাঁধ ভেঙেছে তাই পানি প্রবেশ করছে। এটা তো প্রকৃতির দোষ নয় মানুষের দোষ।

তারা বলছেন, ভবিষ্যতের বন্যা মোকাবেলার জন্য এখন থেকেই রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে প্রস্তুতি নেয়া উচিত। বুয়েট পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার্তরা যাতে সহজে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা এবং তাদের জন্য লং টার্ম পুর্নবাসন করা। ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলছে, বন্যা যত দীর্ঘই হোন না কেন, সরকারের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের পর দেশে এবারই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্যা হচ্ছে।