কার হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন খালেদা জিয়া!

কার হাতে নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন খালেদা জিয়া!

বিএনপির রাজনীতিতে খালেদা জিয়া কি ধীরে ধীরে নেপথ্যে চলে যাচ্ছেন—এমন প্রশ্ন এখনই ওঠার কথা নয়। কিন্তু উঠছে এ কারণে যে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান।

অন্যদিকে কারামুক্ত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুলশানের ‘ফিরোজা’য় চিকিৎসা নিচ্ছেন। বলা হচ্ছে, অসুস্থ হলেও তিনি ‘ঐক্যের প্রতীক’ হিসেবে টিকে থাকবেন।

একই সঙ্গে চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকার ঘটনায় দলের ভেতরে ও বাইরে গুঞ্জন থামানো যাচ্ছে না। কারণ তারেক নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় দল গোছানোর জন্য তৎপরতা শুরু করেছেন। তিনি চাইছেন, স্থায়ী কমিটিসহ সবাই তাঁর পক্ষে কথা বলুক।

এ জন্য পছন্দের লোকদের তিনি ধীরে ধীরে পদায়নের চেষ্টাও চালাচ্ছেন, যা দলের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি সব স্তরে দৃশ্যমান হচ্ছে। অন্যদিকে দলের বড় একটি অংশও আবার এ কারণে শঙ্কিত হয়ে ভাবছেন তারেক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারলে বিএনপিতে তাদের ভবিষ্যৎ নেই।

তারা কেউ বা নীরব, আবার কেউ বা খালেদা জিয়াকে দলে সক্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের অনেকের আরেকটি ভাবনা হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এখনো তারেকের তুলনায় খালেদা জিয়াই বেশি গ্রহণযোগ্য। ফলে তাঁকে সামনে নিয়েই অন্তত আরেকটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষপাতী তারা।

এদিকে গত তিনটি নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল ঘরে তুলতে না পারার কারণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় সুধীসমাজের মধ্যেও একই ধরনের আলোচনা নতুন করে ছড়িয়েছে। দলের একটি অংশের পাশাপাশি সুধীসমাজের কেউ বলছেন, দলকে সামনের দিকে টেনে নেওয়ার মতো শারীরিক সক্ষমতা আর খালেদা জিয়ার নেই।

সাজা স্থগিত করে নির্বাহী আদেশে কারামুক্তির কারণে তাঁর পক্ষে রাজনীতিতে সরব হওয়াও সম্ভব নয় বলে তাঁরা মনে করেন। তাই তাঁরা তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দল পরিচালনায় পক্ষপাতী। আবার কারো মতে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় তারেক রহমানকে সামনে নিয়ে এগোলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়া কঠিন হবে।

তাঁদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে ‘ক্ষমতার বিকল্প বিভিন্ন কেন্দ্র’ বলে পরিচিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাও তারেক রহমানকে সমর্থন করছে না। ফলে অসুস্থ হলেও খালেদা জিয়াই এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির সবচেয়ে বড় প্রতীক বলে তাঁরা মনে করেন।

তবে তারেক সমর্থকরা যুক্তি দিচ্ছেন, বিদেশিদের সঙ্গে সমঝোতা করতেও তারেক রহমানকেই লাগবে। কারণ দলের অন্য কারো সঙ্গে সমঝোতা হলেও তা কাজে লাগবে না। তা ছাড়া গত তিনটি নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

এই অংশের আরেকটি অভিযোগ হলো, সিনিয়র বেশির ভাগ নেতা তারেকের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য কাজ করেন না, বরং আড়ালে তাঁর সমালোচনা করেন। তাই তারেক রহমানকে সামনে নিয়েই তাঁরা দল পরিচালনার পক্ষপাতী।