করোনা ভ্যাকসিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একক উদ্যোগ !

করোনা ভ্যাকসিনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর একক উদ্যোগ !

টিকাদান কর্মসূচীতে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল রাষ্ট্র। টিকা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ অনেক রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছে এবং বাংলাদেশের টিকা প্রদানের ব্যবস্থাপনা প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কারণে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আর এ কারণে একদিকে যেমন মাতৃ মৃ’ত্যু, শিশু মৃ’ত্যুর হার কমেছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে হাম-রুবেলা-পোলিওর মতো রোগগুলো থেকে মানুষ প্রায় মুক্তি পেয়েছে।

এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলা হয় ‘ভ্যাকসিন হিরো’। ভ্যাকসিন হিরো হিসেবে তিনি জাতিসংঘের পুরষ্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক রিপোর্টে যে সমস্ত

দেশগুলো টিকা প্রদান কর্মসূচীতে সারাবিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তাদের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে বর্ণনা করেছে। ঐ রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচীর পরিধি বিস্তৃতি করতে সক্ষম হয়েছে।

যা থেকে অন্যান্য দেশরা শিক্ষা নিতে পারে। কিন্তু সেই বাংলাদেশই এখন করোনা করোনা সংক্রমণের সময়ে ভ্যাকসিন নিয়ে নানা দোদুল্যমানতায় ভুগছে। করো’নার ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হলে বাংলাদেশ সেই ভ্যাকসিন পাবে কিনা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পৃথিবীতে কারা কারা ভ্যাকসিন তৈরি করছে, কারা কোন অবস্থায় আছে এবং কোন ভ্যাকসিন কখন আসতে পারে সেই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী নিজে ভ্যাকসিন সম্পর্কে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলবেন এবং এ নিয়ে তিনি মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের বিল গেটসের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, করোনা সংক্রমণের সময় থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অযোগ্যতার কারণে যখন করোনা মোকাবেলায় মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই করোনা মোকাবেলার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন এবং তার নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনায় বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় একটি সহনীয় পর্যায়ে এসেছে।

জীবন এবং জীবিকাকে পাশাপাশি পরিচালিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বের জন্যে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর জন্য করো’না সং’ক্রম’ণের সময় যে দু’র্নীতি, অনিয়মগুলো হচ্ছিল তা বন্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিছু পরিবর্তন এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পেরেছেন। কিন্তু এখনো স্বাস্থ্যমন্ত্রী লাগামহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য করে সারা দেশের মানুষকে অস্বস্তি ও অজানা আ’শঙ্কার মধ্যে ফেলছেন।

উল্লেখ্য যে, করো’না সং’ক্রম’ণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী যে সমস্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন তার একটি পর্যায়ে জাতির উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তিনি বলেছিলেন, করোনা সহসা যাবার নয়। যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন না আসবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের করো’নার সঙ্গে বসবাসের পথ ও পদ্ধতি বের করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের অনুরণন দেখা যায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ উন্নত দেশগুলোতেও। তারাও এখন আস্তে আস্তে সবকিছু খুলে দিয়েছে এবং ভ্যাকসিনের জন্য চেষ্টা করছে। জানা গেছে যে, সারা বিশ্বের ২০০ টির বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনের চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

যদিও রাশিয়া তাদের ভ্যাকসিন বাজারজাত করেছে বলে বলা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছে, তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালটি তারা বাজারজাত করে দিচ্ছে। ভ্যাকসিনের জন্য অনেকগুলো দেশ রাশিয়ার কাছে চাহিদাপত্র দিয়েছে। চীনের ভ্যাকসিনও বেশি দূর পিছিয়ে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের ভ্যাকসিন বাজারে আসার ঘোষণা আসতে পারে।

তবে সবচেয়ে নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ভ্যাকসিন তৈরি করার ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূর এগিয়ে আছে। বিশ্বের সব বড় বড় দেশই অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের দিকে চোখ রাখছে। তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো ভ্যাকসিনের ব্যাপারে কোনোরকম বাস্তবোচিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কী করবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে বি’ভ্রান্তি আছে।

এর মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যাকসিন ছাড়াই করো’না বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারেন। এ ধরণের বক্তব্যের ফলে বিশেষজ্ঞরা নড়েচড়ে বসেছেন। কিন্তু সকলকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী নিজে ভ্যাকসিনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকার প্রধানের সঙ্গে ভ্যাকসিন নিয়ে কথা বলবে।

বিশ্বে ভ্যাকসিন এলে বাংলাদেশ যেন সবার আগে পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ খুব শীঘ্রই দৃশ্যমান হবে। আর এটি যদি হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশ প্রথম দেশগুলোর একটি হবে, যারা ভ্যাকসিন বাজারে আসার পরই জনগণের মধ্যে দিতে পারবে। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।