ইসরাইলকে চরম হুঁশিয়ারি হামাসের !

ইসরাইলকে চরম হুঁশিয়ারি হামাসের !

অ’বরু’দ্ধ গা’জার অর্থনীতে অব্যাহতভাবে অ’বরোধ আরোপ করছে ইসরাইল। শা’সকগোষ্ঠী হামাসের অবস্থান লক্ষ্য করে চা’লিয়ে যাচ্ছে একের পর এক হা’ম’লা। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে গা’জার উপর চলমান সর্বাত্মক আবরোধ প্রতিহতে নিজেদের সংগ্রামও জোরদার করেছে ফিলিস্তিনিরা।

এ অবস্থায় গা’জায় নতুন করে যু’দ্ধ শুরুর আশ’ঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবশেষ মঙ্গলবার সকালে হামাসের সামরিক অবস্থানে বিমান এবং ট্যাংক থেকে হা’ম’লা চা’লায় ইসরাইল। দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গা’জা থেকে দক্ষিণ ইসরাইল লক্ষ্য করে আ’গুনবেলুন নি’ক্ষেপের জবাবে এ হা’ম’লা চা’লানো হয়েছে।

টানা ১৬ দিন ধরে হামাসের সামরিক স্থাপনা এবং গা’জার কৃষিজমি লক্ষ্য করে হা’ম’লা চা’লিয়ে যাচ্ছে তেল আবিব। বুধবার, আগেরদিনের হা’ম’লার প্রতিবাদে পাল্টা কোনো জবাব দেয়নি গা’জার প্রতিরোধকারীরা। গেলো সপ্তাহে হা’ম’লার জবাবে ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট নি’ক্ষেপ করেছিল স্বাধীনতাকামীরা।

মঙ্গলবারের হা’ম’লায় কেউ হ’তাহ’ত হয়েছে কী না তা জানা যায়নি। ২০০৭ সাল থেকে গা’জায় আরোপ করা অ’বরোধ প্রত্যাহারে ইসরাইলের উপর চাপ তৈরি করতে গেলো দু’সপ্তাহ ধরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে বেলুনবো’মা নি’ক্ষেপ করছে প্রতিরোধকারীরা। এর জেরে ফিলিস্তিনের গা’জা উপত্যকার পক্ষগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের বি’রোধ চ’রম মাত্রায় পৌঁছেছে।

বেলুন এবং ঘুড়িবো’মা থেকে মাঝে মাঝে ইসরাইলি কৃষকদের ফসলি জমিতে আ’গুন ধরছে। নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। গেলো দু’বছর আগে গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন নামে ভূমি পুনরু’দ্ধার আ’ন্দোলন শুরু করে ফিলিস্তিনিরা। তাদের বি’ক্ষো’ভে চাপে পরে মিশর, কাতার এবং জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় গাজা-ইসরাইলের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতাও হয়।

গা’জার উপর থেকে অ’বরোধ প্রত্যাহার করবে ইসরাইল। ইসরাইল সীমান্তের গা’জা অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে শা’সকগোষ্ঠী হামাস। কিন্তু ফিলিস্তিনি নেতারা বলছেন, এ সমঝোতা বাস্তবায়নেও দরক’ষাক’ষি করছে তেল আবিব।ফিলিস্তিনের গণমাধ্যমগুলো বলছে, জলসীমা উন্মুকরণ, নতুন গ্যা’স লাইন নির্মাণ, গ্যা’স চা’লিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, পণ্য পরিবহনের সুবিধাসহ গা’জাবাসীকে দেয়া কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি ইসরাইল।

বরং বেলুন নি’ক্ষেপের জেরে গা’জার বি’রুদ্ধে শা’স্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব। সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন, মাছ ধরার জলাশয়, জ্বালানি সরবরাহসহ একমাত্র বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও বন্ধ করে দিয়েছে ইহুদি’বাদী। বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের কারণে দিনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে গা’জাবাসী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক হুসাম আল দাজানি আল জাজিরাকে বলেন, বর্তমান উত্তেজনা গা’জার পক্ষগুলো বনাম ইসরাইলের মধ্যে। গা’জার সংগঠনগুলো চাচ্ছে অ’বরোধ প্রত্যাহার করা হোক। ইসরাইল চা’চ্ছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অ’বরোধ স্থায়ী করে রাখতে। ফিলিস্তিনিদের অ’বরোধ প্র’ত্যাহারের দাবি আমলে না নিয়ে ইসরাইল উল্টো অরোধ ক’ড়াক’ড়ি করার পাশাপাশি গা’জার সংক’টকে দীর্ঘায়িত করছে।

আগ্রা’সী পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরাইল পরিস্থিতিকে উ’ত্তপ্ত করছে। প’রিস্থি’তিকে আরো অস্থির এবং খারাপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংক’টের কারণ উদঘানের মাধ্যমে সমধান করতে হয়। সংক’ট বাড়িয়ে কখনো সমাধান করা যায় না। বলেন, হুসাম।

‘গা’জার-ইসরাইলের অচলাবস্থা সামরিক পদেক্ষেপ ডেকে আনতে পারে’। হুসাম বলেন, এখন গা’জার বি’রু’দ্ধে আরেকটি সামরিক অ’ভিযানের হু’মকি দিচ্ছে ই’সরাইল। আশ্চর্যের বিষয় গাজায় আরোপ করা অ’বরোধ শিথিলের কোনো চিন্তাই করছে ইহু’দিবাদীরা। বরং তারা সামরিক অ’ভিযানকে বিকল্প হিসেবে ভাবছে।

উ’ত্তপ্ত প’রিস্থি’তি: হামাসের কর্মকর্তা বাসেম নাইম আল জাজিরাকে বলেন, প’রিস্তি’তিকে বি’স্ফো’রণ থেকে রক্ষায় সহযোগিতা না করে, ইসরাইল ধীরে ধীরে গা’জায় দখলদারিত্ব বাড়াচ্ছে। তারা পূর্বের চুক্তির কোনো শর্তই মেনে চলছে না। গা’জার ফিলিস্তিনিরা অসহনীয় দু’র্দশার মধ্যে বেঁচে আছে।

গা’জার সবপক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের বলে দিয়েছে এমন ভ’য়াব’হ পরিস্থিতিতে তারা আর চুপ করে থাকবে না। বলেন, বাসেম। গা’জার সশ’স্ত্রযো’দ্ধারা এবং ইসরাইল বাহিনী এখন সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। তারা আরেকটি যু’দ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হামাস জানিয়েছে, গা’জাকে মুক্ত করা ছাড়া এবার তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না।

দখলদারিত্ব বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আয়রন ডোম মোতায়েন বাড়িয়েছে ইসরাইল। গা’জার বেলুন নি’ক্ষেপকারী দলের সংগঠনটি শনিবার জানিয়েছে, গা’জার অবরোধ প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের আগে তারা ক্ষা’ন্ত হবে না ফিরে যাবে না।

অ’বরোধ প্র’ত্যাহারের দাবিতে একাট্ট গা’জার সবপক্ষ: শুক্রবার ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আ’ন্দোলনকারীদের সংগঠন জয়েন্ট চেম্বার অব দি প্যালেস্টাইন রেসিসটেন্স ফ্যাকশন এক বিবৃতি দিয়েছে। যাতে ১৩টি সশস্ত্র দল অন্তর্ভুক্ত। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আমাদের জনগণের বি’রুদ্ধে অবৈধভাবে আধিপত্য বিস্তারে শত্রুদের কখনোই সুযোগ দেবো না।

অ’বরোধ প্র’ত্যাহার আমাদের বৈধ দাবি। আমরা আমাদের অধিকার রক্ষা করবো। বেলুনবো’মা নি’ক্ষেপে হামাস এবং ইসলামি জিহাদ সহায়তা করছে বলে অ’ভিযোগ করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু। হু’মকি দিয়েছেন বেলুনবো’মা বন্ধ না হলে গা’জার সঙ্গে আরেকটি যু’দ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে।

আর্থিক বি’পর্য’য়: ২০০৭ সালে গা’জার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। তারপর থেকেই উপত্যকায় অ’বরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরাইল। অ’বরোধের কারণে মা’রাত্ম’কভাবে ক্ষ’তিগ্র’স্ত হচ্ছে গা’জার বাসি’ন্দারা। দরিদ্রতার হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ শতাংশ। যেখানে ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ হলেই তীব্র দুর্ভিক্ষ বলে বিবেচনা করা হয়।

প্যালেস্টাইন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স (পিসিবিএস) এ তথ্য জানিয়েছে। পিসিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী গা’জার ৬৮ শতাংশ পরিবার পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবেস্থা করতে পারে না। ৮০ শতাংশ স্থানীয় বাসি’ন্দাকে ত্রাণের উপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে বেকারত্বের হার ৪৫ দশমিক ১ শতাংশ।

ডে’মোক্র্যা’টিক ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনের জ্যেষ্ঠ সদস্য তালাল আবু জারিফা বলেন, ইসরাইল চাচ্ছে অ’বরোধ আরোপ করে আমাদের চুপ করিয়ে রাখতে। ফিলিস্তিন তাদের এ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে। জারিফা বলেন, দখলদার বাহিনী কর্তৃক সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া, মাছ ধরতে না দেয়ার সর্বাত্ম’ক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের লঙ্ঘ’ন। গা’জায় যে নি’র্ম’মতা হচ্ছে তার জন্য দায়ী দখলদার ইসরাইল।

গা’জার উপর আরোপ করা অ’বরোধ প্র’ত্যাহার এবং বাসি’ন্দাদের বি’রু’দ্ধে চা’লানো নিষ্ঠুরতা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিৎ ইসরাইলের বি’রু’দ্ধে চাপ সৃষ্টি করা। বলেন আবু জারিফা। নাইম বলেন, গা’জাবাসীর দুর্দশা এখন সবার কাছে স্বাভাবিক ভুলে যাওয়ার মতো একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায়, ফিলিস্তিনি জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সংগঠনগুলোর সামনে পদেক্ষপ এবং প্র’তিবাদ-প্র’তিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। প্রতিনিয়ত মানবিক পরিস্থিত মা’রাত্ম’ক অবনতি ঘটছে। আমরা কখনোই চুপচাপ থেকে মৃ’ত্যুকে মেনে নিতে পারি না।