যে কারণে দুশ্চিন্তায় ভারত !

যে কারণে দুশ্চিন্তায় ভারত !

ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা নিরসনে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠকে সেনা সরানোর শর্তে প্রাথমিক সমঝোতা হয়। উভয় পক্ষই দেড় থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত সেনা সরিয়ে নিয়েছে বলে আগে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।

তবে স্যাটেলাইটে তোলা ছবির বরাত দিয়ে এনডিটিভি দাবি করেছে, এখনো সীমান্তের প্যাংগং লেক থেকে পুরোপুরি সেনা সরায়নি চীন। সীমান্তের বিতর্কিত ফিঙ্গার-৪ ১০ জুলাইয়ের স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা যায়, চীনা নির্মাণ, তাঁবু ও শেড এখনো ওই এলাকায় রয়ে গেছে।

চীনা সেনারা পুরোপুরি দুই কিলোমিটার পেছনে সরে গেছে এমন দাবি করা যাবে না বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে রোববার জানিয়েছে এনডিটিভি। বলা হচ্ছে, চীনা হোভারক্রাফ্ট প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকায় পড়ে রয়েছে।

এমনকি ১০টি বড় মাপের নৌকাও ফিঙ্গার-৪ এলাকার পূর্ব প্রান্তে ধরা পড়েছে ১০ জুলাইয়ে ধারণকৃত স্যাটেলাইট চিত্রে। লাদাখ সীমান্তে গলওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘ’র্ষের পর সতর্ক অবস্থানে আছে ভারত ও চীনের সেনারা।

এমন প’রিস্থি’তিতে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তা পর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে দু’দেশ। সমঝোতা হয়েছিল প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর দুই কিলোমিটার পিছু হটবে দুই দেশের বাহিনী।

সীমান্তের কয়েকটি বিতর্কিত জায়গায় সেই সমঝোতা সম্পন্ন করেছে দু’দেশের সামরিক বাহিনী। গত সোমবার (৬ জুলাই) থেকেই প্রকৃত নিয়্ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা প্র’ত্যা’হার শুরু করেছিল চীন। তবে প্যাংগং হ্রদ এলাকায় ফিঙ্গার-৪ এবং অন্য কয়েকটি এলাকার ঘাঁটি ছাড়তে নারাজ ছিল পিএলএ।

এরইমধ্যে শুক্রবার (১০ জুলাই) ভারত ও চীনের মধ্যে সীমা’ন্ত ইস্যুতে আবারও বৈঠক হয়। সাম্প্রতিক আলোচনার পর নয়াদিল্লির তরফে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রনেতাদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত মেনে চলা হবে’

এবং ‘সমস্যা তৈরি করে মত পার্থক্য রাখা হবে না’। এছাড়াও, বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘দ্রুততার সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ডিসএগেজমেন্ট প্রক্রিয়া শেষ করতে সম্মত হয়েছে দুইপক্ষই’।

১০ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এনডিটিভি জানিয়েছে, পেট্রলিং পয়েন্ট ১৪ থেকে চীনা সেনাদের পিছু হটার প্রমাণ মিলেছে। সেনা সরেছে প্যাংগং এলাকা থেকেও। তবে চীনা হোভারক্রাফ্ট প্যাংগং লেক সংলগ্ন এলাকায় পড়ে রয়েছে। এমনকি, দশটি বড় মাপের নৌকাও ফিঙ্গার-৪ এলাকার পূর্ব প্রান্তে ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। এছাড়াও স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, কিছু জায়গায় নির্মাণগুলি ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং জায়গাটি পরিষ্কার।

এই এলাকাটি পেট্রোল পয়েন্ট ১৪ নম্বরে, যেখানে ১৫ জুন লাঠি, রড, পাথর নিয়ে সংঘ’র্ষ হয় ভারত ও চীনা সেনার। ওই সংঘ’র্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা জওয়ান নি’হ’ত হন। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, চীনের পক্ষেও অন্তত ৪৫ জন হতাহত হয়।

সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সমস্ত এলাকা থেকে চীনের সরে যাওয়া নিয়ে আশাবাদী দিল্লি। ওই সময়ের মধ্যে দু’দেশের সেনাপর্যায়ে আরও উচ্চ-স্তরের বৈঠক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।