ভারত সীমান্তে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করবে চীন?

ভারত সীমান্তে ট্যাঙ্ক মোতায়েন করবে চীন?

চীন সাত হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক সংগ্রহ করছে। ১৯৫০-এর দশকের সোভিয়েত আমলের সেকেলে টি-৫৪ ধরনের ট্যাঙ্কগুলোর বদলে এগুলো মোতায়েন করবে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।

পুরনো ট্যাঙ্কগুলো প্রতিস্থাপনের কাজ আরো আগেই শুরু করেছিল চীন। তারা টাইপ ৯৯ ট্যাঙ্কের দিকেই গুরুত্ব দিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। এই ট্যাঙ্ক যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সেরা ট্যাঙ্কগুলোর মানেই বলে জানানো হয়েছিল।

টাইপ ৯৯ ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণ ক্ষমতা অনেক বেশি। তবে পাহাড়ি, জলাভূমি ও বন এলাকায় এলাকায় ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন আরো হালকা, গতিশীল আধুনিক ট্যাঙ্ক। আর এই কাজে বেশ দক্ষ টাইপ ১৫। চীনের বিভিন্ন সূত্র এই ট্যাঙ্কের কথা এত দিন বলে আসছিল। কিন্তু এখন চীনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্যাঙ্কের কথা জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওও কিয়ানের উদ্ধৃতি দিযে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানায়, আমরা আমাদের বৃহত্তর পরিকল্পনা অনুসরণ করছি।আমরা এখন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের দিকে নজর দিয়েছি। এই প্রেক্ষাপটে বলছি যে টাইপ ১৫ লাইট ট্যাঙ্ক আমাদের সৈন্যদের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টাইপ ৬২ ট্যাঙ্কের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে টাইপ ১৫। এর ১,০০০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন এতে বেশ গতিশীল করছে। আর এতে ১০৫ এমএম বন্দুক ছাড়াও নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করা যায়। এতে টাইপ ৬২ ট্যাঙ্কের চেয়ে সুরক্ষা উপাদানও আছে অনেক বেশি।

টাইপ ১৫ ট্যাঙ্কের শক্তি কিছুটা কম। তবে এর ওজন কম হওয়ায় একে বৈরী পরিবেশে অনেক ভালোভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। টাইপ ১৫ ট্যাঙ্ক শিরোনামে আসে ২০১৭ সালে। তিব্বত অঞ্চলে চীন-ভারত অচলাবস্থার সময় এর কথা শোনা যায়। তিব্বতি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় হালকা ট্যাঙ্কের।

চীন ও ভারতের মধ্যে বৈরিতা নতুন করে শুরু হওয়ায় তিব্বতের পাহাড়ি এলাকায় টাইপ ১৫ ট্যাঙ্ক মোতায়েনের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বর্তমানে লাদাখ এলাকায় চীনের সাথে ভারতের বিরোধ রয়েছে। এটি খুবই বৈরি এলাকা। অত্যন্ত ঠাণ্ডার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকাও এটি। এখানে এই ট্যাঙ্ক বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে।

সাগরভিত্তিক বাধাও কাটাতে সক্ষম টাইপ ১৫ ট্যাঙ্ক। ফলে সামুদ্রিক হুমকি মোকাবেলাতেও এটি কার্যকর হতে পারে। চীন এখন তার দক্ষিণ উপকূল ভাগের বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। চীন এখন তার নৌবাহিনীর সাঁজোয়া বিভাগকে আধুনিকায়ন ও সুসংহত করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে খুবই কার্যকর হবে টি ১৫। এগুলো স্থলাভিষিক্ত হবে টাইপ ৫৯ ও টাইপ ৬৩ ট্যাঙ্কের। এসব ট্যাঙ্ক এখনো বাহিনীতে রয়েছে।

টাইপ ১৫ ট্যাঙ্কের একেবারে কাছাকাছি সংস্করণ হলো ভিটি-৫। এই ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হবে রফতানির জন্য। এই ট্যাঙ্কের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে জাপানের টাইপ ১০। এর ওজন মাত্র ৪০ টন। তবে এই ট্যাঙ্ক রফতানির ওপর নিজেই নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে জাপান। ফলে সুযোগটি গ্রহণ করতে পারে চীন।