প্র’কাশ্যে রে’ষারেষিতে বি’এসএফ-বি’জিবি

প্র’কাশ্যে রে’ষারেষিতে বি’এসএফ-বি’জিবি

কয়েকদিন পরেই মু’সলমানদের পবিত্র উৎসব ঈদ-উল-আযহা। প্রতিবছর এ সময়ে গরু-ছাগল কেনা-বেচা বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে পাশের দেশ ভারত থেকে অ’বৈধ পথে গরু এসে দেশের হাটবাজারগুলো ভরে যায়।

কিন্তু এবার গরু চোরাচালান নিয়ে দুই দেশের সী’মান্তর’ক্ষী বাহিনী যেভাবে প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে পরস্পরকে এই চোরাচালানের অংশীদার বলে দায়ী করছে তার নজির বিরল। খবর বিবিসি বাংলা

পা’চার করা গরু দিয়ে কোরবানি হয় কিনা, সে ধরণের কোরবানি পশু নি’র্যাতনের সামিল কিনা- বিবৃতি দিয়ে বিএসএফের মত একটি ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে সেই প্রশ্ন তোলার নজিরবিহীন ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশের সীমাতরক্ষা বাহিনী বিজিবির সাবেক প্রধান লে.জে. (অব) মইনুল ইসলাম জানান, প্রকাশ্যে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে এক বাহিনী আরেকটি বাহিনীকে চোরাচালানে জড়িত থাকার জন্য দায়ী করার এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত।

তিনি বলেন, বিএসএফ কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করেনি, প্রতিবেশী দেশের একটি পুরো বাহিনীকে দায়ী করেছে। এটা যেমন অস্বাভাবিক তেমনি অন্যায়। ফলে বিজিবির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি জারি করা যথাযথ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

ঝগড়ার শুরু যেভাবে

এই ঝগড়ার শুরু ৬ জুলাই যখন বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি এসএস গুলেরিয়া ঈদের আগে গরু চোরাচালান নিয়ে একটি বিবৃতি জারি করেন। বিএসএফের ওই বিবৃতিতে বিজিবিকে এই চোরাচালানে মদদ দেয়ার জন্য অ’ভিযুক্ত করা হয়।

একইসঙ্গে ওই বিবৃতিতে বলা হয়, যেভাবে কোরবানির উদ্দেশ্যে গরুগুলোকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢোকানো হয় তা পশু নি’র্যাতনের সামিল, এবং ওই গরু দিয়ে আদৌ কোরবানি হয় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

বিএসএফের ওই বিবৃতির দুই সপ্তাহ পর গত রোববার বাংলাদেশ সী’মান্তর’ক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকে একটি পাল্টা বিবৃতি জারি করে চোরাচালানের পেছনে বিএসএফের মদদের অ’ভিযোগ তোলা হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় চোরাকারবারিদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ভারতের মাটিতে গরু সমাগম ও নদীপথে গরু পা’চারে বিএসএফের নিস্ক্রিয়তা নিঃস’ন্দেহে বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করে।

কোরবানির সঙ্গে পশু নি’র্যাতন নিয়ে যে প্রশ্ন বিএসএফ তুলেছে, তার তীব্র প্র’তিবাদ করে বিজিবি বলেছে, এই ধরণের বক্তব্য ‘পবিত্র ঈদুল আজহার জন্য অবমাননাকর এবং মু’সলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চ’রম আ’ঘাত হা’নার সামিল।’
চা’প তৈরির চেষ্টা?

লে.জে (অব) মইনুল ইসলাম মনে করেন, গরু চোরাচালান নিয়ে ৬ জুলাই প্রকাশিত বিএসএফের ওই ‘অস্বাভাবিক’ বিবৃতি এককভাবে ওই বাহিনী দিতে পারে না এবং এর পেছনে ভারত স’রকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কাজ করেছে।

সী’মান্তে নানারকম মতবি’রোধ রুটিন ব্যাপারে। স্থানীয়ভাবে তার সমাধান হয়। গু’রুতর মতবি’রোধ দেখা দিলে কূটনৈতিক পর্যায়ে তার সমাধানের চেষ্টা হয়, কিন্তু এখানে তা হয়নি।

বিশেষ করে ধর্ম নিয়ে কথা বলা একেবারেই অবিবেচকের কাজ হয়েছে। আমি বুঝতে পারছি না কেন ভারত স’রকার একটি বর্ডার ফোর্সকে দিয়ে এমন সব কথা বলাতে গেল!

মইনুল ইসলাম স’ন্দেহ করছেন, চীন-ভারত সীমান্ত বি’রোধ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চুপ থাকার জন্য বাংলাদেশের ও’পর ভারত হয়তো কোনো চা’প তৈরির চেষ্টা করছে।

চীন-ভারত সীমান্ত সং’ঘাত নিয়ে ভারতের প্রতিবেশিরা কেউ কোনো কথা বলেনি। ভারত হয়তো এটা ভালোভাবে নেয়নি। এটা হতে পারে চা’প তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।এটা অনস্বীকার্য যে চীন-ভারত সীমান্ত বি’রোধ নিয়ে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

কাশ্মীরে পুলওয়ামায় জ’ঙ্গি হা’মলায় ভারতীয় সৈন্যের মৃ’ত্যুতে যেখানে বাংলাদেশ স’রকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহমর্মীতা জানিয়ে বিবৃতি জারি করা হয়েছিল, সেখানে গালওয়ানে ২০ জন ভারতীয় সৈন্যর মৃ’ত্যু নিয়ে চুপ ছিল ঢাকা।

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ভারত স’রকার এবং ভারতীয় সমাজ-রাজনীতির একটি অংশের মধ্যে প্রতিবেশিদের এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষো’ভ তৈরি হয়েছে।

মা’র্কিন সাময়িকী ব্লুমবার্গে এক মন্তব্য প্রতিবেদনে অর্চনা চৌধুরী এবং বিভুদত্ত ওরাধান লিখেছেন, নরেন্দ্র মোদি যদি আশা করে থাকেন বি’পদের সময় তিনি প্রতিবেশিদের কাছ থেকে সমর্থন পাবেন, তিনি ভু’ল ভেবেছিলেন।

যেখানে তাদের সৈন্যের নি’হত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ব্রিটেন সমবেদনা জানিয়েছে, ট্র্যাডিশনাল মিত্র বাংলাদেশ এবং নেপাল সেখানে ছিল নিশ্চুপ।

ওই প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় দফার শাসনে তার ‘কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবা’দী এজেন্ডায় প্রতিবেশিদের মধ্যে ভয়, স’ন্দেহ অস্বস্তি ঢুকেছে।’এটা সবারই জানা যে, ভারতে এনআরসি এবং ধর্মের ভিত্তিতে করা সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশ একেবারেই খুশি নয়।