দুই দশক পর এমন বন্যা রাজধানীতে

দুই দশক পর এমন বন্যা রাজধানীতে

যাত্রাবাড়ী ও ডিএনডি বাঁধ এলাকায়ও বন্যার পানি ঢুকতে শুরু করেছে। রাজধানীর আশপাশের বালু, তুরাগ ও টঙ্গী খালের পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কোনাপাড়া বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট, বাড়ি ও ভবনে বন্যার পানি ঢুকেছে। অনেকে যাতায়াত করছেন নৌকায়। এছাড়াও, রাজধানীর ডেমরা কায়েতপাড়া, গুদপুড়া, কলাপাড়া, বাইদগা, মানিকদা, তেরমুনি এসব এলাকায় বন্যার পানি ঢুকছে। এসব এলাকা তুলনামূলক নিচু হওয়ায় দ্রুত পানি প্রবেশ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৯৮ সালের বন্যার পর এরকম পানি তারা দেখেননি।

এক সপ্তাহের বেশি হলো এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। দিন দিন পানি আরো বাড়ছে। এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, কেবল কোনাপাড়া নয়, ঢাকার পূর্ব দিকে ডেমরা, জুরাইন, মাদারটেক, খিলগাঁও, বাড্ডা, সাঁতারকুলের যেসব নিচু এলাকা আছে, সেখানে পানি উঠেছে। এগুলোতে মূলত বালু নদী ও শীতলক্ষ্যার পানি প্রবেশ করেছে।

রাজধানীর ডেমরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, ১৯৯৮ সালের পর ঢাকায় এমন বন্যা হয়নি। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেছে। এসব এলাকায় বন্যার পানি উঠেছে ১০ দিনের বেশি। আবার কোথাও কোথাও সপ্তাহখানেক হলো বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার অনেক জায়গায় বাড়িঘরে পানি প্রবেশ না করলেও আশপাশে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এই বন্যা পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

তাদের ভাড়া করা কাঁচা কিংবা আধা-কাঁচা ঘরগুলোই বেশি তলিয়েছে বন্যার পানিতে। বন্যায় ভোগান্তির শিকার এসব মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এমনকি তাদের খোঁজ-খবরও নিচ্ছেন না কেউ। ভোটের সময় সবাই জড়িয়ে ধরে গলাগলি করতে দ্বিধা না করলেও এখন তাদের আর দেখা যাচ্ছে না।

প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, এখন যে অবস্থায় আছে ঢাকার বন্যা, এর চেয়ে বেশি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ অবস্থা সপ্তাহখানেক থাকতে পারে। বনশ্রী থেকে ডেমরার দিকে যাওয়ার পথে দেখা যায়, রাস্তার দু’ধারে পানি। কোথাও পানি প্রবেশ করেছে বাড়িঘরে। আবার কোথাও বাড়ির আশপাশের জায়গায় স্থায়ীভাবে জমে আছে পানি। ডেমরা পর্যন্ত প্রায় একই চিত্র