কি হচ্ছে প্রশাসনে?

করোনা সংকট মোকাবেলায় সরকার যখন ব্যতিব্যস্ত ঠিক সেই সময়ে প্রশাসনে ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি জামাত সমর্থিত সরকারি উচ্চ পদস্ত আমলারা জোটবদ্ধ হয়েছেন এবং পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নিচ্ছেন।

এবং ১১ বৎসর ধরে সরকার ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ যেন এখানে কিছুই করতে পারছে না। প্রশাসনে আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের যোগ সাজশেই প্রশাসনে বিএনপি জামাতের পুনর্বাসন চলছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একজনকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। তিনি ২০০১ থেকে ০৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এবং তৎকালীন একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাকে সচিব করার পর প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু সেই তোলপাড়ের রেশ যেতে না যেতেই সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জেলায় জেলা প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে আবার নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সাধারণত জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয় অনেক যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে। এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট সংগ্রহের পর। কিন্তু এমন কিছু সরকারি কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে যারা সরাসরি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

এবং ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই না। বেশ কিছু অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিএনপি জামাত ঘনিষ্ঠ বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাহলে কি বিএনপি জামাত পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন দখল করছেন?

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। আর মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়া ঐতিহাসিক জেলা মেহেরপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী। মেহেরপুর হল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের এলাকা।

সেই মেহেরপুরেই ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয় শহিদুল ইসলামকে। পরে জানা যায় যে, শহিদুল ইসলাম হল ছাত্রদলের সাবেক ক্যাডার। এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন।

এরপরেই তাকে সরিয়ে দিয়ে মেহেরপুরে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানকে। তিনি কৃষি মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে ঐ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। সেইসাথে তিনি সেখানকার ছাত্রসংসদের নির্বাচিত সম্পাদকও ছিলেন।

জানা গেছে, মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর এই রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয়ে ২২ তম ব্যাচের অধিকাংশ কর্মকর্তাই জানে। কিন্তু তারপরও তাকে মেহেরপুরের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হল কিভাবে? সেটি একটি বড় প্রশ্ন।

এছাড়া জেলা প্রশাসকদের মধ্যে আরও একজন আছেন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ না। প্রশ্ন হল, এরা যখন প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দায়িত্ব পালন করবেন।

তখন কি তারা আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে কাজ করবেন? নাকি তারা কম্বল কেলেঙ্কারি, বালিশ কেলেঙ্কারি কিংবা বিভিন্ন দুর্নীতি করে সরকারের বদনাম করবেন। প্রশাসনে জামাত বিএনপির পুনর্বাসন যেভাবে ঘটছে তা সরকারের জন্য একটি সতর্ক বার্তা বটে।

সূত্র:বাংলা ইনসাইডার