আদালতে মন গড়া গল্প শুনাচ্ছেন সাহেদ !

আদালতে মন গড়া গল্প শুনাচ্ছেন সাহেদ !

ক’রোনা’ভাইরাস টেস্ট নিয়ে প্রতারণায় রি’মান্ড আবেদন শুনানির এক পর্যায়ে অ’ভিযুক্ত রিজেন্ট গ্রুপ চেয়ারম্যান সাহেদ নিজেই আদালতে কথা বলার সুযোগ চান।রোববার (২৬ জুলাই) শুনানির এক পর্যায়ে আদালতের অনুমতি পেয়ে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বলেন, ‘গত ১২ থেকে ১৩ দিন ধরে আমি খুব চাপের মধ্যে আছি।

আমি আর পারছি না। আমি অসুস্থ। রি’মান্ড শুনানিটা ঈদের পর হলে ভালো হয়। আমি তো অন্যায় করেছি। সব অ’পরাধের সঙ্গে আমি জড়িত। দেশের অবস্থা স্বাভাবিক হলে যারা আমার বি’রুদ্ধে মা’মলা করেছে, তাদের সব টাকা-পয়সা পরিশোধ করে দেবো। ’এ সময় তার বক্তব্যের বি’রোধিতা করে ঢাকা মহানগর আদালতের প্রধান কৌশলী আব্দুল্লাহ আবুসহ রাষ্ট্রপক্ষে কয়েকজন আইনজীবী বক্তব্য রাখেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বিনামূল্যে তার ক’রোনা টেস্ট করার কথা। অথচ ক’রোনা পরীক্ষার কথা বলে আ’সামি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হা’তিয়ে নিয়েছে। তিনি একজন মহাপ্রতারক। অসুস্থ না হয়েও গত ১৬ জুলাই আদালতে তিনি নিজেকে করোনা রোগী বলে দাবি করেন। আ’সামি আষাঢ়ে গল্প বলছেন। পুলিশ তার যে রিমান্ড চেয়েছে, আমরা তা মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি। ’

এ সময় নাজমুল হোসেনসহ আসামিপক্ষের কয়েকজন আইনজীবী রি’মান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই রাতে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত উত্তরায় রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান শাখায় অভিযান পরিচালনা করে।

পরদিন সাহেদসহ ১৭ জনের বি’রুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মা’মলা করে র‌্যাব। গত ৭ জুলাই সন্ধ্যার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের শাখা দু’টির (উত্তরা ও মিরপুর) কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের কথা বলা হয়। ওইদিন বিকালে উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

শুরুতে সাহেদসহ ৯ জন আসামিকে পলাতক দেখিয়ে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে সাহেদের আরেক সহযোগী তারেক শিবলী রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে গ্রে’ফতার করে র‌্যাব।

গত ১৫ জুলাই ভোর ৫টা ২০ মিনিটে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর সীমান্ত এলাকা থেকে অ’বৈধ অ’স্ত্রসহ রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদকে গ্রে’ফতার করে র‌্যাব।

কোমরপুর সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। সাহেদ গ্রে’ফতার এড়াতে গোঁফ কেটে ফেলেছিলেন, সাদা চুল কালো করেছিলেন। গ্রে’ফতারের পর সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে সাহেদকে ঢাকায় আনা হয়।