মোদি: পাকিস্তানে বাঘ, চীনে বিড়াল সেটাই কি প্রমাণিত ?

পূর্ব-লাদাখের ভারতীয় ভূ’খণ্ডে চীনা সেনা অনুপ্রবেশের ঘটনা উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যে নরেন্দ্র মোদির বি’রুদ্ধে নির্বাচনী ফায়দার জন্য উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ইন্ধনের অভিযোগ উঠেছে বারবার,

সেই তিনি চীনের সঙ্গে চলতি উত্তেজনায় একেবারেি যেন মিইয়ে পড়েছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে যেকোনো সংকটে তাকে সবসময় উচ্চকণ্ঠ হতে দেখা যায়।অথচ চীনের সেনাবাহিনী নৃশংসভাবে ২০ ভারতীয় সে’নাকে হ’ত্যা করলেও মোদির মুখ থেকে মৃ’দু দু`একটি সাধারণ কথা ছাড়া আর কিছুই বের হচ্ছে না।

তার উপর তিনি চীন ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে সেটাও নাকচ করে দেওয়ায় ভারতজুড়ে তার তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শনিবার মোদির কার্যালয় থেকে তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত যে, গত শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে মোদি বলেছিলেন ভারতে চীনের অনুপ্রবেশ ঘটেনি। আর তার দপ্তর শনিবার দেওয়া ব্যাখ্যায় দাবি করে মোদি তার মন্তব্যে সরাসরি ‘স্থান’ এবং ‘পাত্রের’ নাম উল্লেখ করেননি।

বলেছিলেন, ‘‘ওখানে কেউ আমাদের সী’মান্ত পেরিয়ে ঢুকে আসেনি। ওখানে আমাদের এলাকায় কেউ ঢুকেও বসে নেই। আমাদের কোনও পোস্ট (সেনা চৌকি) অন্য কারও দখলেও নেই।’’

মোদির এই কথায় ভারতে বিরোধীদলগুলো তো বটেই সরকারি দলের অনেক নেতাও আড়ালে মোদির সমালোচনা করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল বা এলএসি) পেরিয়ে এসে চীনের আগ্রাসী কাণ্ড নিয়ে যখন দলমত নির্বিশেষে ভারতের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্য শত্রুপক্ষের হাতেই অস্ত্র তুলে দেওয়ার শামিল।

ভারতের ২০ জন সেনা চীনাদের হাতে নিহত হওয়ার পর যখন দেশজুড়ে মাতম চলছিল, তখন মোদি তার টুইটারে শুধুই শোক প্রকাশ করেছিলেন। স্বভাবসুলভ গর্জন তো সেখানে ছিলই না, এমনকি চীনের নামটাও তিনি উল্লেখ করেননি তার সেখানে। চীনের ব্যাপারে মোদির এই নিশ্চুপ নীতি ভারতজুড়েই সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

বলা হচ্ছে, পাকিস্তানের সাথে কিছু হলে বাঘের মতো গর্জন ছাড়েন মোদি, অথচ এখন চীনের বেলায় দেখা যাচ্ছে তিনি ছোট্ট এক বিড়াল। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, চীনের হামলার ভয়ে তিনি গুঁটিসুটি মেরে বসে আছেন। এ যেন লড়াইয়ের আগেই হেরে বসে থাকা!