মানুষ এতো পাষান ?শত চেষ্টা করেও গর্ভের সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি মা হাতি!

উত্তর কেরালার মালাপ্পুরমের সাইলেন্স ভ্যালি ন্যাশনাল পার্ক থেকে একটা হাতি এসেছিল খাদ্যের সন্ধানে কেরালার একটা গ্রামে। গ্রামবাসীরা হাতিটিকে একটা গো’লা-বা’রুদ আনারস খেতে দেয়।

এই অবলা প্রাণীটি সেই আনারস খেয়েও ফেলে। খাওয়ার পরে বুঝতে পারে সে ভুল করেছে। কারণ আনারসটির ভেতরটি ছিল গো’লা-বা’রুদ দিয়ে ভর্তি।

তাই আনারসটি খাওয়ার সাথে সাথে তার মুখের মধ্যে সেটিতে বিস্ফোরণ হল এবং অসহ্য জ্ব’লনে র’ক্তাক্ত হয়ে যায় তার সারা শরীর। বা’রুদ গুলো বি’স্ফোরিত হতে থাকে তার শুঁড়সহ সারা শরীরে।

সেখানকার এক বন বিভাগের কর্মকর্তা মোহন কৃষ্ণন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ডাক্তার যখন হাতিটির ময়নাতদন্ত করেন তখন তারা জানান, ‘১৫ বছর বয়সী হাতিটি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।’

তিনি আরও জানান, ‘হাতিটির মধ্যে একটা সিক্স সেন্স কাজ করেছিল। সে জানতো তার মৃত্যু আসন্ন। শুঁড়সহ গোটা শরীর র’ক্তময়, যন্ত্রণায় জ্ব’লছিল সারা দেহ।

এই অবস্থায় সে তার সন্তানের কথা ভেবে চলে যায় নদীর মাঝে, যাতে সেই র’ক্তাক্ত জায়গায় পোকা-মাকড় না বসে। যতক্ষণ প্রাণ ছিল সে চেষ্টা করেছিল যাতে তার সন্তানের একটু হলেও যেন কষ্ট কম হয়। আর শেষ অবধি সে ওই মাঝ নদীতেই প্রাণ ত্যাগ করে।’

তিনি জানান, বি’স্ফোরণটি এত ব্যাপক ছিল যে, হাতিটির জিভ ও মুখ ভ’য়ঙ্কর ভাবে চোটপ্রাপ্ত হয়। যন্ত্রণা ও খিদেয় হাতিটি গ্রামের পথে ছুটতে থাকে।

কিন্তু এই চরম অস্বস্তির মধ্যেও সে কোনও বাড়ি ভাঙেনি। কাউকে আক্রমণও করেনি। পরে যন্ত্রণার উপশম পেতে সে স্থানীয় ভেলিয়ার নদীতে নেমে যায় পানি খেতে। এরপর ২৭ মে বিকেল চারটায় সে মারা যায়।