প্রধানমন্ত্রীর নিরব অ্যাকশন !

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক বিতর্কিত কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে। তাকে বদলি করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সাবেক সচিব মো. আসাদুল ইসলামের বদলির চার দিনের মাথায় অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) মো. সিরাজুল ইসলামকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে এবং

অতিরিক্ত সচিব (ওষুধ প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. ইসমাইল হোসেনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।আজ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা যে অ্যাকশন শুরু করেছে তার ধারাবাহিকতায় এটা সর্বশেষ বদলি।

সিএমএসডির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহীদুল্লাহকে যখন বদলি করা হয়েছিল। তখন জনপ্রশাসন মন্ত্রীর কাছে পরিচালক একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠি লিখে সে বলেছিলেন,

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কি কি দুর্নীতি হয়, সেখানে কারা কি বলে। সে সময় এই অতিরিক্ত সচিবের নাম বলেছিলেন, তাকে ফোন করে জিএমআইয়ের মাস্ক নিতে বলেছিল। বাংলা ইনসাইডারের এই রিপোর্টে যার বিস্তারিত তথ্য আছে ‘হাটে হাড়ি ভাঙলেন সিএমএসডির বিদায়ী পরিচালক ‘।

স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ে এই বিতর্কিত অতিরিক্ত সচিবকেও এবার বদলি করা হলো। করোনা সংক্রমণের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে দায়িত্বহীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা, এবং নজিরবিহীন দুর্নীতি তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অ্যাকশন অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সারাদেশের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই বলেছিলেন এন ৯৫ যে মাস্ক দেওয়া হয়েছে সে মাস্কটি আসলে এন ৯৫ না। প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, যে সমস্ত সাপ্লাইয়াররা জিনিসপত্র দিচ্ছেন তা যেন যাচাই বাছাই করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে খন্ডণ করার এক প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর অ্যাকশন শুরু হয়। প্রথমে বদলি করা হয় সিএমএসডির পরিচালককে, এরপর আসাদুল ইসলামকে। সিএমএসডির পরিচালক চিঠিতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিলেন তাদেরকে একে একে বদলি করা শুরু হয়েছে।

এই তালিকায় প্রথমে মন্ত্রীর একান্ত সচিব ওয়াহিদুর রহমানকে বদলি করা হয়। তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পদায়ন করা হয়। ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর নতুন একান্ত সচিব আজ যোগদান করেছেন।

আর সিএমএসডির পরিচালক যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তাদের অন্যতম সিরাজুল ইসলামকেও সরিয়ে দেওয়া হলো।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নীরব অ্যকশনে শেষ পর‌্যন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি মুক্ত হয় কিনা সেটাই দেখার বিষয়।