চীন-ভারত সমঝোতা: নাস্তানাবুদ ট্রাম্প; পুতিনের দ্বারে মোদি!

গালওয়ান নিয়ে চীন-ভারত উত্তেজনার আপাত অবসান হয়েছে। দুই পক্ষই তাদের সৈন্য সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। আর এই সমঝোতার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে রাশিয়া।

কূটনৈতিক সূত্রে এমনটাই জানাচ্ছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো। চীন-ভারত সমঝোতায় মস্কোর এই সাফল্যে আবারও নাস্তানাবুদ হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কারণ তিনি শুরু থেকেই দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বেইজিং তো তাকে পাত্তা দেয়-ই নি, এমনকি দিল্লির কাছেও খুব একটা গুরুত্ব পাননি তিনি।

ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গালওয়ান উপত্যকায় ১৫ জুন চীন-ভারত সংঘর্ষের পরেই চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে ভারতীয় পররাষ্টমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ফোনে কথাবার্তার পিছনে মূল ভূমিকা ছিল মস্কোর।

গত দু’সপ্তাহ ধরেই চীন প্রশ্নে রাশিয়ার কাছে দেন দরবার করেছে ভারত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গত তিন সপ্তাহে বিভিন্ন স্তরে রাশিয়ার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের পররাষ্টসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা,

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মস্কোয় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বর্তমানে রাশিয়াতেই রয়েছেন। সেখানেও মস্কোর মধ্যস্থতায় চীনের সঙ্গে তার কয়েক দফা বৈঠকের কথা রয়েছে।

যদিও দিল্লি সেটা সরাসরি স্বীকার করছে না। তারা বলছে, রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সরঞ্জাম আমদানি করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই রাজনাথ পুতিনের দেশে গেছেন। চলতি বছরের শেষে ওই সরঞ্জাম ভারতে আসার কথা। কিন্তু তা দ্রুত সরবরাহ করা নিয়ে শ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন রাজনাথ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যতই রাখ ঢাক করা হোক না কেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হতে চাইছেন, এটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

এক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারেই পাত্তা পাচ্ছে না। এর আগে, কয়েক দফায় পাক-ভারত উত্তেজনায় তিনি মধ্যস্থতা করতে চেয়েছিলেন। তখনও সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মোদি। আর এবার ট্রাম্পকে গুরুত্ব না দিয়ে পুতিনের দ্বারে গিয়ে মোদি ট্রাম্পকে আরেকবার অপমানই করলেন।