আবারো বিএনপিতে তারেক কোন্দল !

খালেদা জিয়াকে রাজনীতি শূন্য করে তারেক জিয়ার আধিপত্য বিস্তার হওয়ায় বিএনপিতে নিষ্ক্রিয় হতে শুরু করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। ডেইলি বাংলাদেশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলের সর্বোচ্চ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে মাঠ পর্যায়ের তৃণমূল নেতাকর্মী পর্যন্ত এর সংখ্যা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে (অব:) মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, মোসাদ্দেক আলী ফালু, মেজর হাফিজ উদ্দিন, বরকত উল্লাহ বুলু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী,

রুহুল আলম চৌধুরী, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালীসহ আরো অসংখ্য নেতাকর্মী তারেকের নেতৃত্বের প্রভাবে আজ নিষ্ক্রিয়। এদের সবারই পদ-পদবী থাকলেও দলে কথা বলার নেই কোনো জায়গা।

এক সময় দলটির এসব কান্ডারিরা আজ ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন। অবমূল্যায়ন আর অবহেলায় তারা নিজেদেরকে রাজনীতি থেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। দলটির এক সিনিয়র নেতার সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র তারেকের আধিপত্যের কারণে বিএনপির এসব নেতারা এখন হতাশাগ্রস্ত। রাজনীতিতে নেই তাদের কোন অবস্থান। এমনকি দলের মধ্যে কথা বলারও কোনো জায়গা নেই। দলটিকে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে বন্দী করে রেখেছেন তিনি।

একসময়ের বিএনপি’র কান্ডারী ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুধুমাত্র তারেক রহমানের কারণেই আজ তারা রাজনীতি থেকে বিমুখ। তারা বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি যখন সরকার গঠন করলো তখন তার মায়ের ক্ষমতায় ভাগ বসাতে আলাদা বলয় গড়ে তুলতে শুরু করে তারেক রহমান। তৃণমূলের কর্মী সম্মেলনের নামে ধীরে ধীরে সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপিকে সাজাতে চেয়েছিল তারেক রহমান। এতে করে পুত্রের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে ২০০৬ সালেই দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বিএনপি চেয়ারপারসন। তখন থেকেই একে একে দলের সিনিয়র নেতারা তাকে ছেড়ে নাম লেখায় সংস্কারপন্থীতে। তখন থেকেই শুরু হয় বিএনপির অধঃপতনের যাত্রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র কিছু সিনিয়র ও এক সময়ের শীর্ষ স্থানীয় নেতা বলেন, বিএনপির অধঃপতনের মূল নায়ক হল তারেক রহমান। শুধুমাত্র তার কারণেই আজ বিএনপিতে বিভাজন। তিনি শুরু করেছেন ক্ষমতার লড়াই। করেছেন খালেদাকে রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমান তারেক। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করলেও দেশে ক্ষমতার লোভ তাকে ছাড়েনি। তার ক্ষমতার লোভ পর্যায়ক্রমে বিএনপিকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।

ডেইলি বাংলাদেশ