১০ মিনিটেই চুরমার হয়ে গেছে সব স্বপ্ন!

১০ মিনিটেই চুরমার হয়ে গেছে সব স্বপ্ন!

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামের বাসিন্দা হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইন। দুই জনের মধ্যে দারুণ বন্ধুত্ব। তবে ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে স্বপ্ন ভেঙে গেছে দুই বন্ধুর। এই বন্ধুত্বের ওপর ভর করেই দুই জন স্বপ্ন দেখেছিলেন মুরগির খামার ও মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হবেন,

পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচবেন ও ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবেন। শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ মিনিটের ঝড়ে হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইনের মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারের ৬টি শেড ও ৬টি খাবার রাখার ঘর উড়ে যায়। মারা যায় খামারের সাড়ে ১২ হাজার মুরগি।

যেসব মুরগি পরদিনই বিক্রি করার কথা ছিল। সব মিলিয়ে দুই বন্ধুর অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। ঝড়ে ভেঙেছে শেড, মরেছে খামারের মুরগিহারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইন জানান, আমরা দুই জন আমাদের এলাকার বৈরাগীটোল গ্রামে ৩২ বিঘা জমি বছরে তিন লাখ টাকা চুক্তিতে লিজ নিয়ে

প্রতিটি তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি সেড ও প্রতিটি দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি খাবার রাখার ঘর তৈরি করে এখানে তিন বছর ধরে পোল্ট্রি ও মাছের ব্যবসা করে আসছি। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে সাজিয়েছিলাম বিশাল এই খামারটি।

ঝড়ে ভেঙেছে মুরগির শেড, উড়ে গেছে খাবার রাখার ঘরতারা জানান, আমাদের স্বপ্ন ছিল আমরা স্বাবলম্বী হবো, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচবো ও ছেলে-মেয়েদের লেখা-পাড়া শিখিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করবো। তবে শনিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ১০ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের সে স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

আমরা ব্র্যাক ও অগ্রণী ব্যাংক থেকে অনেক টাকা লোন নিয়েছি, তা কীভাবে পরিশোধ করবো, এই খামার আবার কীভাবে দাঁড় করাবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই যাতে সরকার পোল্ট্রি শিল্প বাঁচাতে আমাদের পাশে দাঁড়ায়।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার বলেছেন, আমি সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোলের হারাধন পোদ্দার ও কৌশিক বাইনের খামারটি পরিদর্শন করেছি। খামারটির ৬টি শেড, খাবার রাখার ৬টি ঘর উড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার মুরগি মারা গেছে। তাদের অন্তত ৩০ লাখ টাকার মতে ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।

ঝড়ে ভেঙেছে শেড, মরেছে খামারের মুরগিগোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সচিত্র প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। এরপর আমরা ক্ষতিগ্রস্ত খামারটির বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।