সুস্থতার সংজ্ঞা নিয়ে কারসাজি চলছেই!

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা সংক্রমিত ব্যক্তি কীভাবে সুস্থ হবেন এ নিয়ে একের পর এক অবস্থান পরিবর্তন করছেন। প্রথমে বলা হয়েছিল যে, একজন রোগী যখন করোনায় সংক্রমিত হবেন, তারপর দুটি নমুনা পরীক্ষা পিসিআর ল্যাবে করার মাধ্যমে যদি দুটিতেই নেগেটিভ আসে তাহলে বুঝতে হবে যে তিনি করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং তিনি সুস্থ। তখন তাকে প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। কিন্তু এর ফলে যখন সুস্থতার সংখ্যা ছিল কম, এ নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।

পরিবর্তন করে নতুন গাইডলাইন তৈরি করে। সেই গাইডলাইনে বলা হয়, ওষুধ ছাড়া যার অন্তত তিনদিন জ্বর থাকবে না এবং যার উপসর্গগুলো তিনদিন ধরে কম থাকবে, তাকে সুস্থ বলে বিবেচনা করা হবে। তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এটি একটি ভয়ংকর প্রবণতা বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছিলেন। কারণ ছাড়পত্র পাওয়া রোগীরও যদি করোনা উসপর্গ থাকে এবং তার সংক্রমণের ক্ষমতা থাকে, তবে তার মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়বে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহপ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, দুটি পিসিআর ল্যাবে নেগেটিভ প্রমাণিত হওয়া ছাড়া একজনকে ছেড়ে দেওয়ার মানে হলো করোনা সংক্রমণকে বাড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সেই প্রেক্ষিতে আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আবার তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেছেন, কোনো রোগীর যদি জ্বর কমার ওষুধ ছাড়া তিনদিন কাশি সহ অন্য উপসর্গগুলো না থাকে তাহলে তাকে বাড়ি যাওয়ার ছাড়পত্র দিতে হবে। তবে বাড়িতে গিয়ে তিনি আইসোলেশনে থাকবেন। কিন্তু তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

অর্থাৎ শুধুমাত্র ছাড়পত্র দিয়ে সুস্থ দেখানোর জন্য এক অদ্ভুত কারসাজির আশ্রয় নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কারণ ওই ব্রিফিংয়েই অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা বলেন, এরকম অবস্থায় তাকে ১৪ দিন থাকতে হবে। এবং ১৪ দিনের মধ্যে তাকে আবার দুটি পিসিআর পরীক্ষা করতে হবে। পিসিআর পরীক্ষার পর যদি তিনি নেগেটিভ হন তাহলে তিনি সুস্থ। তাহলে তাকে আগেই ছাড়পত্র দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, হাসপাতালের উপর চাপ কমানোর জন্য এটি একটি ভালো লক্ষণ। কিন্তু যখন রোগীর অক্সিজেন বা অন্যান্য আনুষাংগিক কিছুর প্রয়োজন হয় না, তখন তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে রাখা যেতে পারে।

কিন্তু তার মানে এই না যে তিনি সুস্থ। পিসিআর ল্যাবে পরপর দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ আসা ছাড়া একজন রোগীকে সুস্থ বলা যাবে না। কাজেই করোনার সুস্থতা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভ্রান্ত তথ্য দিচ্ছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।তারা মনে করেন যে, সুস্থর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছে।