শেখ হাসিনার কঠিন শাসন!

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের অভিভাবক, দলের অভিভাবক। দলে যারা সিনিয়র নেতারা রয়েছেন তাঁদের অনেককেই তিনি চাচা ডাকেন, আর অনেকের তিনি স্নেহধন্য।

যদি অনেককে অনেককে তিনি চাচা ডাকেন, ফুপু ডাকেন, অনেককে আবার সম্মান করেন। কিন্তু শেখ হাসিনা যে দলের অভিভাবক সেটা সব সঙ্কটের সময় প্রমাণ করেন। এবার দলের সিনিয়র নেতা এবং অসুস্থ নেতাদের তিনি কঠিন শাসনে রেখেছেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে তিনি কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওবায়দুল কাদের যেন কোণ অবস্থাতেই ঘর থেকেই বের হয়না, তাঁর যে সমস্ত কাজকর্ম, তা যেন ঘরে বসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করেন। কিছুদিন আগে ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হয়ে সিঙ্গাপুরে গিয়ে বাইপাস সার্জারি করিয়ে এসেছিলেন। সেজন্য শেখ হাসিনার কঠিন শাসনে আছেন ওবায়দুল কাদের।

শুধু ওবায়দুল কাদের নন, আওয়ামী লীগের যারা বয়প্রবীন নেতা, যারা বয়স্ক বা অসুস্থ- তাঁদেরকে শেখ হাসিনা কড়া নজরদারির ভেতর রেখেছেন। কারণ করোনাভাইরাস বয়স্কদের জন্য মরণঘাতী। বয়স্ক মানুষরা আক্রান্ত হলে তাঁদের সুস্থ সম্ভাবনা অনেক কম। বিশ্বের এই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের কঠিন শাসনে আগলে রেখেছেন। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর পরিবারকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, কোন অবস্থাতেই যেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ঘর থেকে বের না হয়। এলাকায় যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা।

একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে আমির হোসেন আমুকে। আমির হোসেন আমু ঢাকায় থেকে ত্রাণ কাজ পরিচালনা করছেন ঝালকাঠিতে। তোফায়েল আহমেদকেও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে যে তিনি যেন ঢাকার বাইরে বা ঘর থেকে বের না হন। তোফায়েল আহমেদ অবশ্য এখন তথ্য-প্রযুক্তি ভালোই আয়ত্ত করেছেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিন এলাকার সাথে যুক্ত হচ্ছেন এবং নিজ এলাকায় ব্যাপক ত্রাণ-তৎপরতা চালাচ্ছেন। মতিয়া চৌধুরীও বয়প্রবীণ নেতা, তাঁকেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে তিনি যেন ঢাকায় থেকেই সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।

এছাড়া ঢাকায় যেহেতু দলের সাধারণ সম্পাদকের অফিসে থাকছেন, সেহেতু ঢাকায় টুকটাক চলাফেরা করার অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু তাঁকে ঢাকার বাইরে যেতে বারণ করা হয়েছে। শেখ হাসিনার এই মাতৃত্বসুলভ আচরণই আওয়ামী লীগকে একটি পরিবারের বন্ধনে আবদ্ধ করে রেখেছে এবং সেই পরিবার অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যে বন্ধন কেউ ছিঁড়ে ফেলতে পারেনা।