মগন বালার স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নওগাঁ সদর উপজেলার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের শংকরশা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী বিধবা মগন বালার। ১৪ বছর আগে মারা যান তার স্বামী গানু সরদার। স্বামীর রেখে যাওয়া খুপড়ী ঘরে বসবাস করতেন তিনি। স্বপ্ন ছিল ওই জমিতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন। তার এ স্বপূরণে এগিয়ে এলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ‘যার জমি আছে ঘর নেই’ তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২৯৭ বর্গফুটের সেমিপাকা ঘরটি পান এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। মগন বালা বলেন, ১৪ বছর আগে আমার স্বামী মারা যান। আমি আদিবাসী বিধবা নারী।

আমার জমিজমা কিছুই নেই। স্বামীর রেখে যাওয়া খুপড়ী ঘরেই বসবাস করতাম। বর্ষার সময় বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি জমে পুকুরের মতো হয়ে যেত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে ঘরটা দিয়েছে এটা পাকা ঘর। আমি প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘায়ু কামনা করি।

এ রকম ঘর পেয়েছেন উপজেলার শৈলগাছী ইউনিয়নের সিংবাছা গ্রামের নবীর উদ্দিন, বক্তারপুর ইউনিয়নের দিঘা গ্রামের রেখা আক্তার, শেলগাছী ইউনিনের সুফিয়া বেগম, ইয়াছিন আলীসহ ১৭৮ গৃহহীন পরিবার।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, নওগাঁ সদর উপজেলার জন্য ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণের জন্য ১৭৮ ঘর বরাদ্দ পাওয়া যায়। প্রতিটি ঘরের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ। সর্বমোট ১ লাখ কেটি ৭৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ১৭৮ ঘরের কাজ সম্পূর্ণ করে উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে একটি টয়লেটসহ একটি বাড়ি করে দেওয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আশ্রয়ণ- ২ প্রকল্পের অধীনে শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, অতিবার্ধক্য, দুঃস্থ, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের মধ্যে ১৭৮ ঘর নির্মান করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণ বাবদ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। আমরা নির্ধারিত বরাদ্দের মধ্যে সব থেকে ভালো নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করেছি এবং নির্মাণ শেষে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সেই ঘরেই তারা বসবাস করছেন।