ভয়াবহ তথ্য ‘করোনা বাতাসে ভাসে ৩০ মিনিট, ছড়াতে পারে ১৪ ফুট’

ভয়াবহ তথ্য ‘করোনা বাতাসে ভাসে ৩০ মিনিট, ছড়াতে পারে ১৪ ফুট’

গোটা বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে করোনা ভাইরাস। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। দিনে দিনে যেমন করোনা সংক্রমণের পরিমান বাড়ছে তেমনি নিজেকে অবিরত পরিবর্তন করে চলেছে ভাইরাসটি। এতদিন করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলছিলেন বিজ্ঞানীরা।

কিন্তু নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে আরও ভয় ধরানো তথ্য। করোনা ভাইরাস বেশি ছড়ায় মানুষের হাঁচি এবং কাশির মাধ্যমে। এই জলকণা ৬ ফুট পর্যন্ত দূরে যায় এবং বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

ফ্লোরিডার আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই গবেষক বলেছেন, সাধারণ কাশির সাথে তিনহাজার ড্রপলেট বা জলকণা নির্গত হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে এই ড্রপলেটগুলোর মধ্য দিয়েই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যকে সংক্রমিত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবে মানুষের কাশির শক্তির পরিমাপ করেন দুই অধ্যাপক। একটি নকল মুখমন্ডল তৈরি করে এর মুখে গিøসারিন ও পানির মিশ্রনে তৈরি কৃত্রিম ড্রপলেট দেয়া হয়। যন্ত্রের সাহায্যে সৃষ্ট কাশির ফলে মুখ থেকে নির্গত জলকনা বা ড্রপলেটগুলি বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। যা সবুজ লেজার আলোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হয়।

কাশির মাধ্যমে ১০ থেকে ২০ মাইক্রোনের কনা তৈরি হয় যা ছোট ছোট ফোঁটার আকারে ছড়িয়ে পড়ে। কাশির সাথে সাথে এই ফোঁটাগুলো তাৎক্ষনিক ৩ ফুট দূরত্ব অতিক্রম করে। এরপর ৫ সেকেন্ডে ৬ ফুট ও ১০ সেকেন্ডে ৯ ফুট পর্যন্ত ছড়ায়। ফোঁটাগুলো বাতাসে ঘুরপাক খেতে থাকে এবং ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে এটি আরো ৩ ফুট এগিয়ে যায়।

এই জলকণা ২ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে কাশির ঘনত্ব কম হলে এটি ৬ ফুট পর্যন্ত বাতাসে মিশে থাকে। কখনও কখনও কাশির তীব্রতার ওপরও নির্ভর করে তা কতদূর যাবে।

অপরদিকে দেখা যায়, সাধারণ একটি মাস্ক পড়ে কাশি দিলে মুখ থেকে নির্গত জলকণা বা ড্রপলেট ছড়াতে পারে না। তবে মাস্ক ব্যবহার না করে, কাশি দেয়ার সময় কুনুই বা হাত ব্যবহার করলে ড্রপলেট চারদিকে ছড়ায় এবং তা তিন ফুট পর্যন্ত যেতে পারে। পরীক্ষা শেষে এই দুই গবেষক জানিয়েছেন, সামাজিক দূরত্ব সর্বনি¤œ ছয় ফুট হলেও তা আরো বেশি হলে ভালো হয়।