দেশে দীর্ঘদিন করোনা থাকলে ভয়াবহ যে ক্ষতি!

দেশে দীর্ঘদিন করোনা থাকলে ভয়াবহ যে ক্ষতি!

বাংলাদেশ করোনা মোকাবেলায় এখন যে কৌশল গ্রহণ করেছে তাতে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশ করোনার সাথে বসবাস করতে চায়। দীর্ঘমেয়াদী করোনা মোকাবেলার পথই অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। করোনা মোকাবেলায় এখন পর্যন্ত দুটি পদ্ধতি দেখা গেছে। প্রথম পদ্ধতি হলো, করোনা সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে লক ডাউন, সামাজিক দুরত্ব,

সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি করে নিশ্ছিদ্র করে তোলা এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করোনাকে বিদায় দিয়ে সামাজিক জীবনে ফিরে আসা। চীনের অভিজ্ঞটা থেকে দেখা যাচ্ছে যে, এটা করতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। চীনের এই ফর্মুলার আলোকেই স্পেন, ইতালিও এইভাবে সঙ্কট সমাধানের চেষ্টা করছে।

দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো, করোনাকে উপেক্ষা করে দ্বিতীয় স্থানে দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সচল রেখে দীর্ঘমেয়াদী পথে সঙ্কটের সমাধান খোঁজা। সীমিত আকারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু রাখার ফলে যেমন দেশে অর্থনৈতিক সঙ্কট তৈরী হবেনা, তেমনি করোনার দীর্ঘমেয়াদী ব্যপ্তি থাকলে আস্তে আস্তে তা জনসাধারণের কাছে সহনীয় হয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সম্ভবত দ্বিতীয় পথেই হাঁটছে। বাংলাদেশে অনেক রোগই হয় এবং কোন কোন রোগ সারা বছর ব্যাপী থাকে। কাজেই একবার মানুষ এটার সাথে সহনীয় হয়ে গেলে, ভবিষ্যতে তাঁরা এটা নিয়ে আতঙ্কিত হবেনা এবং আস্তে আস্তে করোনার সাথে বসবাস করায় অভ্যস্ত হবে। তখন মানুষ সামাজিক দুরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ইত্যাদি বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে।

একটা স্বাভাবিক হারে করোনা রোগী শনাক্ত হবে, করোনাতে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মৃত্যুসংখ্যাও থাকবে এবং এই সবকিছুই মানুষের কাছে স্বাভাবিক থাকবে। এরকম একটি কৌশলের পথে সরকার হাঁটছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর হলেও করোনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে এবং

ফলাফল বুমেরাং হয়ে আসতে পারে আমাদের জন্য। এর কারণ হলো, করোনা অত্যন্ত ছোঁয়াচে এবং সহজেই সংক্রমিত হয় বলে করোনার দীর্ঘ উপস্থিতি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে যেমন একটি খারাপ অবস্থায় নিয়ে যাবে, তেমনি দেশের অর্থনীতি এবং কর্মজীবনেও একটি স্থবিরতা আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দীর্ঘমেয়াদী যদি করোনার প্রকোপ থাকে, অর্থাৎ চার মাসের বেশি সময় যদি করোনার প্রকোপ বাংলাদেশে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের জন্য কি কি ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, তা দেখে নেয়া যাক-

১. অর্থনৈতিকভাবে স্থবিরতা কাটবে না

কারণ করোনা যতদিন থাকবে, ততদিন কিছু মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে না, নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ অসুস্থ থাকবে, অফিস-আদালতে কোন একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যেতে হবে। অফিস আদালতে একটি শঙ্কা কাজ করবে এবং এরফলে স্বাভাবিক গতি নিয়ে সকলে একসাথে কাজ করতে পারবে না। এর ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা আসবে, গতি আসবে না এবং একটি অজানা আশঙ্কা ও আতঙ্ক কাজ করবে।

২. জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে

করোনা দীর্ঘমেয়াদী হলে আমাদের চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি করে আক্রান্ত হবে এবং এর ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে না। করোনা মোকাবেলার ব্যবস্থা, যেটা শুরু থেকেই বেহাল দশায় ছিল তা আরো ভেঙ্গে পড়বে। ফলে পরিস্থিতি নাজুক হবে এবং আমাদের পুরো জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়বে।

৩. বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের সমস্যা তৈরী হবে

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সারা বিশ্ব থেকে মোটামুটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং করোনা যদি দীর্ঘমেয়াদী থাকে তাহলে বাংলাদেশের লোকদের বিদেশ ভ্রমণে যেমন সমস্যা হবে, তেমনি বিদেশ থেকে বাংলাদেশে লোকজন আসতে উৎকণ্ঠা, অস্বস্তি এবং অনাগ্রহ দেখাবে। এটার ফলে বাংলাদেশের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের।

৪. বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে

যেহেতু করোনা ছোঁয়াচে এবং সহজেই সংক্রমিত হয় সেজন্য করোনা দীর্ঘমেয়াদে থাকলে বাংলাদেশের পণ্য নিতে অনেক দেশ আপত্তি জানাতে পারে এবং এর ফলে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতিতে একটি নেতিবাচক মনোভাব আসতে পারে।

৫. বড় ধরণের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাগুলো হুমকির মুখে পড়বে

দীর্ঘমেয়াদী করোনা থাকা মানে আমাদের অর্থনীতিতে একটি স্থায়ী সমস্যা। এই স্থায়ী সমস্যা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণে বাধা দেবে। বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্পর্ক লেনদেন করতে আন্তর্জাতিক মহল দ্বিধান্বিত থাকবে। বাংলাদেশেরও যারা উদ্যোক্তা, তারা বড় ধরণের পরিকল্পনা গ্রহণে দশবার চিন্তা করবে। এরফলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্থ হবে।