চেয়ারম্যানের পরিবারের ১৫ সদস্যের নামে চালের কার্ড!

চেয়ারম্যানের পরিবারের ১৫ সদস্যের নামে  চালের কার্ড!

নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নিজ পরিবারের ১৫ সদস্যকে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড দেয়ার অ’ভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রিয়াজুল ইসলাম চঞ্চল সদর উপজেলার হবখালী ইউপির চেয়ারম্যান।চঞ্চলের বাড়ি ওই ইউপির ভাণ্ডারিপাড়ায়। একই ইউপির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের ডিলার চেয়ারম্যানের আপন ভাতিজা মো. লিংকন রহমান।

স্থানীয়রা জানায়, ইউপি চেয়ারম্যানের আপন ও সৎ মিলে তিনজন মা, দুই ভাই, বোন, বোন জামাই, ভাতিজা, চাচা, মামা, বেয়াইসহ ১৫ জনের নামে কার্ড রয়েছে। তার মা রিজিয়া বেগম, নূরজাহান বেগম ও রোকসানা বেগমের নামে ভাণ্ডারিপাড়ার ১০ টাকা কেজির কার্ড রয়েছে। তাদের ক্রমিক যথাক্রমে ৪১, ৬২ ও ৮০।

এছাড়া বোন আইরিন (ক্রমিক-১০২) ও বোনজামাই রওশন শেখ (ক্রমিক-১০৩) কার্ডধারী। ভাই কামরুজ্জামানের নামে দুই জায়গায় কার্ড রয়েছে। তার ক্রমিক ১১ ও ৬০। আরেক ভাই ঝন্নুর নাম রয়েছে ৪১৪ ক্রমিকে। ভাতিজা সৌরভ ও তার স্ত্রী সুমির নামেও রয়েছে দুইটি কার্ড।

একই গ্রামে চেয়ারম্যানের মামা মো. রবিউল ইসলামের (ক্রমিক-৮৫) নামে কার্ড রয়েছে। এছাড়া বেয়াই আব্দুল ওয়াদুদ মোল্লা (ক্রমিক-১৯৪) ও তার স্ত্রী তানজিরাকেও (ক্রমিক-১০১) কার্ড দেয়া হয়। মামাতো ভাই ইকবাল, জাহিদ ও আরেক ভাই নাঈমের নামেও ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড রয়েছে।এসব কার্ডধারীদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কার্ড দেয়া হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ।

এদিকে ভাণ্ডারিপাড়ার তামেশা বেগম, শিল্পীসহ কয়েকজন গ্রাম ছেড়ে চলে গেলেও তালিকায় নাম পাওয়া গেছে। একই গ্রামের কাজি তরিকুল ইসলাম প্রবাসে থাকলেও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের কার্ডে নাম রয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের তথ্যমতে, হবখালী ইউপিতে দুই ডিলারের মাধ্যমে ৬১৮টি কার্ডে দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৩০৯টি কার্ডে চাল বিতরণ হয় ডিলার মো. লিংকন রহমান ও অপর ডিলার বাগডাঙ্গা বাজারে মো. জিন্নাহ মোল্লার মাধ্যমে।

ডিলার মো. লিংকন রহমান বলেন, আমি তো তালিকা করি না। এটা চেয়ারম্যান-মেম্বাররা করেন। কেউ না এলে তার পক্ষের কাউকে চাল দেয়া হয়।

চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম চঞ্চল বলেন, আগে কিছু ভুল-ত্রুটি ছিল। তা সংশোধন করা হচ্ছে। এছাড়া যে ১৫ জনের নামে কার্ড রয়েছে, তারা সবাই গরিব।

এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এক ডিলারকে বাতিল ও আরেকজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান চঞ্চলকেও কারণ দর্শানোর কথা বলা হয়েছে।

নড়াইলের ডিসি আনজুমান আরা বলেন, কার্ডগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে অনেক কার্ডের ভুল-ত্রুটি আমাদের নজরে এসেছে।