ঘরবন্দি কাদের কি করেন সারাবেলা জানালেন নিজেই!

ঘরবন্দি কাদের কি করেন সারাবেলা জানালেন নিজেই!

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে থাকার নির্দেশনা মেনে চলছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তবে এরমধ্যেই সাংগঠনিক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

৬৭ বছর বয়সী ওবায়দুল কাদের গত বছর মার্চে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঢাকায় চিকিৎসায় অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার পর সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়েছিল তাকে। সেখানে আড়াই মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে আবারও পুরোদমে কাজ চালিয়ে আসছিলেন তিনি।হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছিলেন ওবায়দুল কাদের।

সংসদ ভবন এলাকায় ওবায়দুল কাদের।সংসদ ভবন এলাকায় ওবায়দুল কাদের।বৈশ্বিক ম’হামারী আকার নেওয়া শ্বাসতন্ত্রের রোগ নতুন করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ার পর লকডাউনের শুরু থেকেই তাকে সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
দিনে দুইবার দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হওয়াসহ কর্মব্যস্ত ওবায়দুল কাদেরের পুরো সময়টাই এখন কাটছে ঘরে। কেমন যাচ্ছে তার ঘরবন্দি দশা জানতে সোমবার সন্ধ্যায় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ফোনে কথা হয়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, সংসদ ভবনের পাশের সরকারি বাসভবনে থেকেই সারাক্ষণ অনলাইন ও মোবাইল ফোনে সারা দেশের জেলা ও উপজেলায় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে। এর মধ্যে নিজের নির্বাচনী এলাকায় ত্রাণ বিতরণে নির্দেশনাসহ নোয়াখালীর চিকিৎসা সেবার বিষয়েও যোগাযোগ রাখছেন নিয়মিত।

গত বছর গুরুতর অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা ওবায়দুল কাদের নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন।গত বছর গুরুতর অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা ওবায়দুল কাদের নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন।এদিকে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির বিভিন্ন বক্তব্য ও অভিযোগের জবাবও দিচ্ছেন প্রতিনিয়তই।
ওবায়দুল কাদের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক মাস ধরেই ঘরে থাকছি।”

তবে এরমধ্যেই সারা দেশের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তদারক করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “পার্টির জয়েন সেক্রেটারি, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা হচ্ছে। তারা সারা দেশের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড মনিটর করে রিপোর্ট দিচ্ছেন।“মাঝে মাঝে আমি নিজেও জেলা-উপজেলায় যোগাযোগ করছি, নিজ জেলায় ত্রাণ পাঠিয়েছি। নির্বাচনী এলাকার লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি।”

লকডাউনের মধ্যে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সংসদ ভবন এলাকায় অন্তত ৪০ মিনিট করে হাঁটেন কাদের।লকডাউনের মধ্যে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় সংসদ ভবন এলাকায় অন্তত ৪০ মিনিট করে হাঁটেন কাদের।নিয়মিত আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ে দিনে দুই বার যাওয়া-আসা থাকলেও এখন তা না হওয়ায় খারাপ লাগছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “প্রতিদিন দুবার যেতাম, এখনও যেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন ঘরে থাকতে, তাছাড়া বাস্তবতা বিবেচনায় ঘরেই থাকছি।”

নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কীভাবে রাখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ফোনেই সবার সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। মাঝে মাঝে ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছি। দেশের বাইরের অনেক নেতাকর্মীদের সঙ্গেও ভিডিও কলে কথা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছি।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে অধিকাংশ সময় বাসাতেই কাটছে ওবায়দুল কাদেরের।করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে অধিকাংশ সময় বাসাতেই কাটছে ওবায়দুল কাদেরের।প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি নিয়মিত প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করছি, নেত্রীর নির্দেশনাই আমি নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি।”

ঘরে বসেই পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলের কাজের তদারক করছেন বলে জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।“বাসায় থেকেই প্রতিদিন মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ করছি। সচিব, প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছি।”

বাসায় বসেই মন্ত্রণালয় ও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।বাসায় বসেই মন্ত্রণালয় ও সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ফাইল নিয়ে এলে বাসার ফটকে তাদের অপেক্ষায় রেখে বাসায় থাকা দুই-একজন ওই সব ফাইল নিয়ে যান ওবায়দুল কাদেরের কাছে। তিনি স্বাক্ষর করে দিলে তারা আবার ফটকে অপেক্ষমাণ কর্মকর্তাদের সেগুলো পৌঁছে দেন।

স্বাস্থ্য বিধি পুরোপুরি মেনে চলার চেষ্টা করেন জানিয়ে কাদের বলেন, “সকাল ও সন্ধ্যায় বাসার সামনে সংসদ ভবন এলাকায় অন্তত ৪০ মিনিট করে নিয়মিত হাঁটছি। এছাড়া সকল ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছি।”

ঘরে থাকলেও ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই সময় কাটছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময়ই পার করছি। সকালে হাঁটা, পরে বাসায় এসে দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমের খবর পড়া, নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার মধ্য দিয়েই দিন শেষ হয়ে যায়। কিছু সময় অবসর পেলে বই পড়ি।”বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমে কথাও বলছেন ওবায়দুল কাদের।

এ রকম আরও অনেক সুদৃশ্য ঘড়ি রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের।এ রকম আরও অনেক সুদৃশ্য ঘড়ি রয়েছে ওবায়দুল কাদেরের।“বাসাতেই নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে শুধুমাত্র বিটিভিতে কথা বলছি। ওখান থেকে সবাই নিয়ে নিচ্ছে।

করোনাভাইরাস সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশনা সবাইকে মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, “এই দুর্যোগকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও পরীক্ষিত নেতৃত্বে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৩১ দফা নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই।”