করোনায় সুস্থতা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাইডলাইন মানছে না বাংলাদেশ

করোনায় সুস্থতা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) পরস্পর বিরোধী অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ তার নতুন যে ট্রিটমেন্ট প্রটোকল তৈরি করেছে, সেই ট্রিটমেন্ট প্রটোকল বলছে যে, একজন ব্যক্তি যদি কোনো প্যারাসিটামল বা অন্য কোনো জ্বর উপশমের ওষুধ ছাড়াই পরপর তিনদিন জ্বরহীন থাকে,

তার যদি সর্দি, কাশি এবং শ্বাসকষ্টসহ কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে তাকে হাসপাতাল সুস্থতার ছাড়পত্র দেবে। তিনি বাসায় যাবেন এবং বাসায় গিয়ে ১৪ দিনের আইসোলেশনে থাকবেন। এই ১৪ দিন আইসোলেশনের মধ্যে তার দুই দুই বার করোনা পরীক্ষা হতে পারে। করোনা পরীক্ষার পর দুটি পরীক্ষাতেই যদি তিনি নেগেটিভ হন, তাহলে তাকে করোনা নেগেটিভ হিসেবে সার্টিফাইড করা হবে।

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনে বলা হয়েছে, একজন ব্যক্তি যদি করোনায় আক্রান্ত হন, তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তার ২৪ ঘন্টার ব্যাবধানে দুটি করোনা পরীক্ষা করতে হবে। দুটি পরীক্ষাতেই তিনি যদি নেগেটিভ হন, তাহলে তিনি সুস্থ বলে বিবেচিত হবেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ট্রিটমেন্ট প্রটোকল করেছে তা বিভ্রান্তিকর। এটার ফলে দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনি একজন মানুষও বিপদে পড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এর ফলে যে সমস্যাগুলো হবে, তা হলো-

১. তাকে সুস্থ বলা হলেও, তিনি করোনামুক্ত সেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না। করোনামুক্তির সার্টিফিকেট না পাওয়া গেলে, তার বিদেশ ভ্রমণ, বাড়ি ভাড়া ও কর্মস্থানে যোগদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসুবিধা হবে।

২. করোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা করা ছাড়া তাকে সুস্থতার সার্টিফিকেট দিলে তিনি আইসোলেশনে নাও যেতে পারেন। বাসায় গিয়ে অন্যদের সাথে মেলামেশা করতে পারেন। এর ফলে তার উপসর্গগুলো অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৩. এর ফলে তার মধ্যে নতুন করে উপসর্গগুলো আবার দেখা দিলে, আবার তিনি অসুস্থ হয়ে গেলে, তার চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়বে।

এসব কারণেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ট্রিটমেন্ট প্রটোকলটি করেছে, সেটি বিজ্ঞানভিত্তিক নয়।

অবশ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র বলছে যে, তাদের রোগীর চাপ যেভাবে বাড়ছে, সেজন্য তারা রোগীর চাপ সামলাতেই এই ব্যবস্থা নিয়েছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীর চাপ সামলানোর জন্য একটু অবস্থা উন্নত হলে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু তাকে সুস্থ বলা যায় না। শুধুমাত্র তখনই সুস্থ বলা যাবে, যখন দুইটি পরীক্ষায় তিনি করোনা নেগেটিভ প্রমাণিত হবেন। আর এই বিবেচনা থেকেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, হাসপাতাল থেকে চেড়ে দেওয়া এক জিনিস, আর সুস্থতা অন্য জিনিস।

উল্লেখ্য যে, করোনা নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ের সময় ইতিমধ্যেই আগে যেখানে সুস্থতার সংখ্যা দেওয়া হতো, শুধুমাত্র যারা দু’বার পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছেন তাদেরকে। কিন্তু হঠাৎ করেই গত ৪ মে থেকে সুস্থতার হার বাড়ানো হয়। তখন এই নতুন তত্ত্ব দেওয়া হয়। এই তত্ত্বের ফলে করোনা চিকিৎসা নিয়ে নতুন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।