করোনার সাথে আপোষ কি অবশ্যম্ভাবী!

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, অক্সফোর্ড ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ এবং চীনসহ এই মুহূর্তে বিশ্বে ১০০টির বেশি করোনার ভ্যাকসিনের কাজ চলছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, একটি কার্যক্ষম টিকা তৈরি করতে প্রায় ১০ বছর সময় লেগে যেতে পারে। আবার এমনও হতে পারে যে, ভ্যাকসিন ছাড়াই আমাদের করোনা মোকাবেলা করতে হবে।

করোনার ভ্যাকসিন সহসাই মানুষের হাতে আসছে না বলেই মত দিয়েছেন গবেষকরা। কারণ কয়েক বছরের গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও ২০০২ সালের সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (সার্স) ভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি, গবেষণা বাতিল করা হয়েছে।

একটি সূত্র বিগত ৫০ বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়েছেন যে, একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে কতো সময়ের প্রয়োজন হয়। তা হলো- জিকা ভাইরাস, প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৪৭ সাল, ৭৩ বছর গড়িয়ে গেছে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। চিকেনপক্স প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৫৩ সাল। ৪২ বছর পরে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় ১৯৯৫ সালে। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৬৫ সালে। ১৬ বছর পরে ১৯৮১ সালে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়। ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে।

৪৩ বছর পরে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় ২০১৯ সাল।এইডস প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৮১ সালে। ৩৯ বছর গবেষণায়ও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। সার্স ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় ২০০৩ সালে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি, ১৭ বছর পর গবেষণা বাতিল করা হয়েছে। মার্স ভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় ২০১২ সালে। ৮ বছর গবেষণা করেও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি।

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজ অবধি যতো ভাইরাস আক্রমণ করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই করোনা ভাইরাস বা Covid 19, যা প্রথম সনাক্ত হয় ডিসেম্বর ২০১৯ সালে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা চলছে; এবার অনুমান করে দেখা যায় কবে এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে।

বিজ্ঞানের আবিষ্কারের ভালো কিছু নিয়ে তাঁর সাথে আপোষ করে, আমাদের কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবার ফিরে যেতে হবে কমপক্ষে ১০০ বছর আগের জীবনে। যেখানে কোন ভারবাহী গাধারা বাচ্চার মত পড়ার বইয়ের ব্যাগ কাঁধে থাকতো না, মাকে সাথে না নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছিল স্কুলে যাওয়া।

স্কুল থেকে ফেরার পথে বৃষ্টি হলে অধিকাংশ ক্ষাত্রেই ছাতা না নিয়ে কচু বা কলাপাতা মাথায় দিয়ে বাড়ি ফিরতে কোনই লজ্জা ছিল না। আমাদের শুধু স্কুল-ব্যাগ যাতে বনা ভেজে সে দিকে খেয়াল রাখতাম। স্কুলের পরেও সূর্যাস্ত পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে খেলা। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে ঢুলুঢুলু চোখে স্কুলের পরের দিনের পড়ায় একটু চোখ বুলানো, তার পরে সটান ঘুম। গ্রীষ্মের ছুটিতে জোছনা রাতেও খেলা আর আড্ডা চলবে অফুরান।

ঘুম থেকে উঠেই গরমের দিনে সকালে পান্তাভাত পিয়াজ মরিচ দিয়ে খেয়েই স্কুলে, মাঠে, কাজে, নানা পেশায় যাওয়া। কারণ পান্তা খেলে পাওয়া যায় পুষ্টি, দ্রুত যোগায় শক্তি। সাদা-ভাতের চেয়ে পুষ্টিমানে এগিয়ে পান্তাভাত। পান্তাভাতে বেশি পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম আছে। দ্রুত শক্তি যোগায় বলে কায়িক পরিশ্রম করা মানুষ তাৎক্ষণিক-ভাবে পান্তাভাতের সুফল পান। রক্তস্বল্পতার শিকার মানুষের জন্য পুষ্টিকর খাবার পান্তাভাত। বাংলা প্রবাদে আছে ‘পান্তাভাতের জল, তিন পুরুষের বল’। তাই পান্তা খেলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাবে বেড়ে।

আগে আমরা বাস্তবিক বন্ধু আর প্রকৃতির সাথে জীবন কাটাতাম, সেখানে ছিল না ইন্টারনেট, ছিল না, এসি, রেফ্রিজারেটর, জীবনকে বিলাসী আর সহজ করার মত সব উপাদান। এখন ইন্টারনেট হবে আমাদের তথ্য প্রবাহের বন্ধু, কিছু জরুরি যোগাযোগ আর কাজের মাধ্যম। কিন্তু তাঁর বেশি কিছু করতে গেলেই মহা বিপদ আসন্ন। মুটিয়ে যাবেন, হবেন ওবিসিটির রোগী, আয়ু কমে যাবে বিভিন্ন অসুখে; যা ইউরোপ আমেরিকার প্রধান সমস্যা।

আমরা তৃষ্ণার্ত হিলে দৌড়ে গিয়ে কুয়ো, টিউবওয়েলের পানি খেতাম প্রাণ ভরে, থাকতো না সেখানে জীবাণুর ভয়, ফিল্টার করা জীবাণুমুক্ত পানি নয়, তাও অসুস্থ হয়ে পড়ি নি, কারণ আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল বেশি। তাইতো মাত্র ১ টাকার দামের আইসক্রিম ৪ জন ভাগ করে খেয়েও পেট খারাপ করেনি, জন্ডিস হয়নি। আমরা প্রতিদিন পেট ভরে ভাত আর প্রাণ খুলে মিষ্টি খেয়েও মোটা হয়ে পড়ি নি, কারণ কঠোর পরিশ্রম করে আমরা তা জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে ফেলতাম। খালি পায়ে জমিতে ফুটবল খেলা সত্বেও পা ভেঙে ফেলিনি।

ঘরের মধ্যে বসে খেলার জন্য খেলনা আমরা নিজেরাই বানিয়ে ফেলতাম, পাতার বাঁশি, চশমা, ঘুড়ি, লাটাই, লাটিম, ক কী! মা বাবার কাছে থেকেই মানুষ পরিবারের সবার ভালোবাসা আর আদরে বড় হয়েছি, মনে সাহস ছিল বলে রোগ প্রতিরোধ যা ছিল তাঁর চেয়ে বেড়ে যেতো, সবাই বলতেন কিছু হবে না।