করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হলে কি হতে পারে বিশ্বে?

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হলে কি হতে পারে বিশ্বে?

যদি কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার না হয় তবে কি হতে পারে? ভ্যাকসিনের বিষয়ে বারবারই মানুষের আশা জাগে কিন্তু তারপর তা নির্লিপ্ত হয়ে যায়। কারণ বিভিন্ন প্রস্তাবিত সমাধান চূড়ান্ত হওয়ার আগে নানা ধরণের বাঁধার মুখে পড়ে। কোভিড-১৯ পুরোপুরি মুছে ফেলার পরিবর্তে সমাজ এর সাথে বাঁচতে শিখতে পারে।

টিকা আবিস্কার না হলে শহরগুলো হয়তো ধীরে ধীরে খুলে যাবে। কিছু কিছু স্বাধীনতাও ফিরে আসবে। রোগ পরীক্ষা ও ফিজিক্যাল ট্রেসিং হয়তো আমাদের নিত্যজীবনের অংশই হয়ে যাবে। বেশ কিছু দেশে যে কোনও মুহূর্তে চলে আসবে সেলফ আইসোলেশনের নির্দেশ।

টিকা আবিস্কার না হলে এটাই হয়তো হবে নরমাল। সবাই হয় বাড়িতে বসে কাজ করবেন, অথবা করবেন রোগাক্রান্ত হবার ঝুঁকি নিয়ে। আবার হয়তো এই রোগের চিকিৎসাও আবিস্কার হয়ে যাবে। তবে প্রতিবছর এই রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী মৃত্যুহার বাড়তেই থাকবে।

ভ্যাকসিন আবিস্কারের বিষয়টি এমন একটি পথ যা সর্বজনীনভাবে রাজনীতিবিদদের দ্বারা পরিচালিত, যারা ইতিমধ্যে একটি ভ্যাকসিন খুঁজে পেতে মানব পরীক্ষার বিষয়ে আশাবাদী কথা বলছেন। অনেক বিশেষজ্ঞ এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

কারণ এর আগেও বেশ কয়েকবার এমনটি ঘটেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের বিশ্ব স্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক ড. ডেভিড ন্যাবারো বলেছেন, কিছু ভাইরাস রয়েছে যেগুলোর কোন ভ্যাকসিন আমাদের কাছে নেই। ড. ডেভিড কোভিড-১৯ এর বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ দূত হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি কোনও ধারণা বা অনুমান করতে পারি না যে কোন ভ্যাকসিন আসবে। যদি কোন ভ্যাকসিন আসে তবে তা কার্যকারিতা এবং সুরক্ষার সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।’ ড. ডেভিড ন্যাবারো সিএনএনকে জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে গোটা সমাজকে একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

যেখানে তারা করোনাভাইরাসের ক্রমাগত হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে এবং আমাদের মধ্যে করোনাভাইরাস থাকা সত্ত্বেও সামাজিক জীবন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বেগবান হবে। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা আত্মবিশ্বাসী যে, শেষ পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর একটি ভ্যাকসিন তৈরি হবে। কারণ এটি এইচআইভি বা ম্যালেরিয়ার মতো দ্রুত রুপ পরিবর্তন করে না।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি এবং সংক্রামক রোগের পরিচালক ডাঃ অ্যান্টনি ফৌসিসহ অনেকেই পরামর্শ দেন যে, ভ্যাকসিন আবিস্কার হতে এক বছর থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে ইংল্যান্ডের চিফ মেডিকেল অফিসার ক্রিস হুইটি বিভিন্ন দিক বিশ্লেষনের মাধ্যমে পরামর্শ দেন যে, এক বছরের আগেই এই ভ্যাকসিন আসতে পারে।