এবার বসুন্ধরা করোনা হাসপাতালের উদ্বোধন নিয়ে জটিলতা!

এবার বসুন্ধরা করোনা হাসপাতালের উদ্বোধন নিয়ে জটিলতা!

সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় অপেক্ষমান আছে বসুন্ধরা করোনা হাসপাতাল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাইলেই হস্তান্তর করে দেওয়া হবে ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি) প্রাঙ্গণে নির্মিত এই হাসপাতাল। হাসপাতালটি আজ শনিবার দুপুর ১২ টায় উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আজ উদ্বোধন হলো না।

বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন তাদের এত বড় প্রয়াসটা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এখন পর্যন্ত সময় দেননি। প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটা সামারি তার দপ্তরে যাওয়ার কথা। সেই সামারিটাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত তৈরী করেনি। যার ফলে বসুন্ধরার হাসপাতালটির কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি। এটা উদ্বোধন নিয়েও একটা জটিলতা তৈরী হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চাচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করা হোক। কিন্তু বসুন্ধরা গ্রুপ চাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এই জটিলতায় উদ্বোধন হচ্ছে না হাসপাতালটি। বসুন্ধরাকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এটাও জানানো হয়নি আদৌ এটা কে উদ্বোধন করবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সময়ও পাওয়া যাবে কিনা।

প্রধানমন্ত্রীর কার‌্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কোন হসপিটাল উদ্বোধন করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে ‘সামারি’ যেতে হবে।কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোন ‘সামারি’ পাঠানোও হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত বিলম্ব হচ্ছে দেশের বড় এই হাসপাতালের উদ্বোধন। আর বিলম্বিত হওয়া মানেই করোনা চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটা।

মাত্র ২০ দিনের মধ্যে এত বড় একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা সত্যিই দারুণ একটি ব্যাপার। শুধু আমাদের দেশ না দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও এটা বড় একটা ঘটনা। এটা আমাদের সক্ষমতাকে তুলে ধরে। কিন্তু হাসপাতালটি নিয়ে নানা রকম জটিলতা শুরু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ ছাড়াও কবে থেকে কিভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে হাসপাতাল সে সম্পর্কে কিছুই জানাচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে সরকারকে আইসিসিবিতে পাঁচ হাজার শয্যার একটি সমন্বিত অস্থায়ী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল পরিদর্শন করে সেখানে হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।

নানা হিসাব-নিকাশ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানে দুই হাজার ১৩ শয্যার হাসপাতাল ও ৭১ শয্যার আইসিইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইসিসিবির সুবিশাল চারটি কনভেনশন হল ও একটি এক্সপো ট্রেড সেন্টারে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কভিড-১৯ বিপর্যয় শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং যত দিন ব্যবহারের প্রয়োজন শেষ না হবে তত দিন সরকারের আইসিসিবিতে স্থাপিত এ হাসপাতালটি ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কিন্তু নির্মাণ শেষে এখন সেটা ব্যবহার হচ্ছে না।