‘এত মারছেন কেন! আমরা আপনার ছোটভাই না?’

ক্রিকেট মাঠের খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা স্লেজিং বা প্রতিপক্ষকে উত্যক্ত করা। বৈশ্বিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর পরিমাণ। অজি ক্রিকেটাররা তো স্লেজিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের খুব বেশি স্লেজিং করতে দেখা না গেলেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে খুনসুটি কম করেন না তারাও। এবার ভারতের বিপক্ষে একটি ম্যাচে স্লেজিংয়ের গল্প শুনিয়েছেন টাইগার ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম।

২০০৭ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার গ্রুপপর্বে ভারতকে ৫ উইকেটে হারায় টাইগাররা। মূলত এই জয়ই হট ফেবারিট ভারতকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়। অন্যদিকে সহজে পরের রাউন্ডে যায় হাবিবুল বাশারের দল।

ভারতকে হারানো সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে একাই ভুগিয়েছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি। বর্তমান বিসিসিআই সভাপতি সেদিন ১২৯ বল খেলে করেছিলেন ৬৬ রান। মূলত তার এই ইনিংসের কল্যাণেই ১৯১ রান পর্যন্ত যেতে পারে আগের আসরের রানার্স আপ দলটি। সৌরভের ব্যাটিং দেখে তার সঙ্গে রসিকতা করে উত্যক্ত করেছিলেন উইকেটকিপার মুশফিক।

সম্প্রতি ডেইলি ক্রিকেট এর ফেসবুক লাইভে ভক্তদের সঙ্গে সেই ঘটনা শেয়ার করেন মুশফিক। তিনি বলেন, ‘আসলে কাউকে কখনো খোঁচা দিয়ে স্লেজ করা হয়নি। আমি ওরকম করি না। তবে টেকটিক্যাল স্লেজিং করা হয়, এটা ক্রিকেটের অংশ। আমার ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে স্লেজিংয়ের কথা মনে আছে। বিশ্বকাপে সেটা ছিল আমার প্রথম ম্যাচ। সৌরভ গাঙ্গুলি অনেকক্ষণ ধরে ব্যাটিং করছিলেন। ঐ ম্যাচে উনি ৬৬ রান করেন।’

মিস্টার ডিপেন্ডেবল যোগ করেন, ‘তখন রফিক ভাই বা রাজ্জাক ভাই বল করছিল। উনি তো কলকাতার, বাংলা অবশ্যই ভালোভাবে বোঝেন। তাই আমি বললাম- দাদা, এত মারছেন কেন! আমরা আপনার ছোটভাই না? এত মারলে কীভাবে হবে! আমাদের একটু ছাড়-টাড় দেন। তখন তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু স্ট্রাইক ঘুরিয়ে আবার যখন আমার প্রান্তে আসলেন তখন বললেন- না না, তোরা এখন আর ছোট নেই। তোরা এখন অনেক বড় হয়ে গেছিস। তোদের আর ছাড় দেওয়া যাবে না।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচটি হারার পর ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয় ভারত। পালাবদল আসে ক্রিকেটেও। ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি টুকরো স্মৃতিগুলোও বেশ ভালোই মনে আছে মুশফিকের।