উপসর্গহীন বাহকরাই তছনছ করতে পারে বাংলাদেশ

উপসর্গহীন বাহকরাই তছনছ করতে পারে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের করোনা নিয়ে চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, উপসর্গহীন বাহকরা, তথ্য গোপনকারীরা এবং মৃদু উপসর্গ বহনকারী ব্যক্তিরাই বাংলাদেশের জন্য সবথেকে বেশি ভ’য়ঙ্কর এবং তাঁদের হাতেই তছনছ হতে পারে বাংলাদেশ। যেহেতু বাংলাদেশে সীমিত আকারে পরীক্ষা হচ্ছে, একটি বিরাট জনগোষ্ঠী পরীক্ষার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। তাই উপসর্গহীন, তথ্য গোপনকারী এবং মৃদু উপসর্গসহ ব্যক্তিরাই বাংলাদেশে করোনার সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে ভয়াবহ পরস্থিতি তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসকরা বলছেন যে, করোনায় আক্রান্ত অন্তত আশি ভাগ মানুষ নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে যায়। এটা যেমন সত্যি তেমনি এটাও সত্যি যে পাঁচ ভাগ মানুষ সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চলে যেতে কোন সময়ই নেয় না। আবার এটাও সত্যি যে, যাঁদের হৃদরোগ আছে, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনী সমস্যাসহ স্থায়ী জটিল রোগে যারা ভুগছেন তাঁদের জন্য করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ বিভীষিকার মতো।

তাই উপসর্গবিহীন, তথ্য গোপনকারী এবং মৃদু উপসর্গ বহনকারী মানুষ যখন অবাধে ঘোরাফেরা করেন, তখন এই সমস্ত আক্রান্তরা অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এলে অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু ডেকে আনা ছাড়া আর কিছুই করবেন না। আর এটার ফলে করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার যেমন বাড়তে পারে, তেমনি হতে পারে একটি ভয়াবহ অমানবিক সঙ্কটও।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে করোনার বৈশিষ্ট্যের একটি বড় ব্যতিক্রম হলো বাংলাদেশে প্রচুর উপসর্গহীন রোগী পাওয়া গেছে এবং এখন পর্যন্ত যত রোগী পাওয়া গেছে তাঁদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশই উপসর্গহীন। তাঁরা কোনরকম স্বাস্থ্যগত সমস্যা না থাকার পরেও শুধুমাত্র নিশ্চিত হওয়ার জন্যে করোনা পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

আর এই উপসর্গহীন বাহকরা শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বের জন্যেই ভ’য়ঙ্কর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে তাঁরা করোনার বাহক এবং তাঁদের যখন কোন উপসর্গই থাকছে না, তখন তাঁরা অবাধে এখানে সেখানে যাচ্ছেন এবং করোনা সংক্রমণ ছড়াচ্ছেন। তাঁদের কারণে ঝুঁকিতে থাকা মানুষ যদি আক্রান্ত হন, তাহলে দ্রুত তাঁদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হবে।

অন্যান্য দেশগুলোতে করোনা রোগীদের যে উপসর্গ যেমন মৃদু জ্বর, শুকনো কাশি ইত্যাদি। তবে বাংলাদেশে বহু করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে যাঁদের মধ্যে কোনরকম উপসর্গই নেই। অবশ্য কোন কোন চিকিৎসক বলছেন যে, বাংলাদেশে কিছু বাস্তবতার কারণে উপসর্গ গোপন করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে, সামাজিকভাবে একঘরে করা হচ্ছে, বাড়িওয়ালা উচ্ছেদ করছে, চাকরি হারাচ্ছেন এমনকি নিকটাত্মীয়রা তাঁর সাথে সম্পর্ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করছেন। এরকম একটি বাস্তবতায় উপসর্গগুলো গোপন করা বা তথ্য গোপন করার প্রবণতা বাংলাদেশে দেখা দিচ্ছে।

কাজেই যাঁদেরকে উপসর্গহীন বলা হচ্ছে, তাঁরা আসলে কতটা উপসর্গহীন বা তথ্য গোপন করছেন- এটা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সংশয় প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে যে, তথ্য গোপন করে করোনা আক্রান্তরা যাচ্ছেন অন্য চিকিৎসা করতে। সেখানে গিয়ে তাঁরা করোনার ব্যাপক সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা মনে করছেন যে, সামাজিকভাবে হেয় হওয়া বা চিকিৎসা পেতে সমস্যা হওয়ার কারণে অনেকে উপসর্গ গোপন করছেন।

গোপন করার কারণে তাঁরা অবাধে চলাফেরা করছেন। কিন্তু এই উপসর্গহীন মানুষরাই বাংলাদেশে করোনার জন্য সবথেকে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তাঁরা যেকোন মানুষের সাথে অবাধে মেলামেশা করছেন এবং এর ফলে দেশে করোনার সামাজিক সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সবথেকে বড় কথা হচ্ছে যে, করোনা আক্রান্তরা নিজেরাও যখন জানছেন না যে, তাঁরা করোনা সংক্রমিত, তাঁরা অন্যের সঙ্গে মেলামেশা করতেও আড়ষ্ট হচ্ছেন না। এর ফলে বাংলাদেশে একটি নিরব সংক্রমণ বাংলাদেশে ব্যাপক হারে বাড়ছে।