ভারতে তুমুল বিতর্কের মধ্যে নিজামুদ্দিনে যাওয়া ৫৪ তাবলিক মুসল্লির দায়িত্ব নিলেন মমতা !

দিল্লির নিজামুদ্দিনের যে তাবলীগ জামাত থেকে ব্যা’পক হারে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর আশ’ঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে অংশ নিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গেরও বেশ কয়েকজন মানুষ। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের থেকে জানিয়েছেন বলে এ দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

তিনি বলেন, ‘নিজামুদ্দিনে যোগ দেওয়া ৫৪ জনকে মঙ্গলবারই হোম কোয়ারানটিনে পাঠানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ৫৪ জনের মধ্যে ৪০ জন বিদেশি। যারা মায়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে এসেছিল।’ তবে, ইতোমধ্যে গোটা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক দিকে ঘোরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজামুদ্দিনের ঘটনাকে ”করোনা সন্ত্রা’স, সুপরিক’ল্পিত ষ’ড়য’ন্ত্র, পুরো দেশে সন্ত্রা’স ছড়ানোর চেষ্টা বলে অভিযো’গ করেছেন বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোম।

মমতা এদিন বলেন, ‘এই সং’কটের সময়ে ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতি করবেন না! জাতের নামে বজ্জাতি করবেন না!’ তার কথায়, ”নিজামুদ্দিনের ঘটনায় আমাদের রাজ্যে ৭১ জন রয়েছে বলে কেন্দ্র জানিয়েছে। এদের ৫৪ জন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাদের মধ্যে ৪০ জন বিদেশি। মায়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মানুষ। এদের কোয়ারানটিনে পাঠানো হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, বাঁকুড়া, মগরাহাটের কয়েক জনের স’ন্ধা’ন মিলেছে। আশা করছি তারা নিজেরাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আজ এদের আরও ৩০ জনকে কোয়ারানটিনে পাঠানো হবে। আমরা বলছি আপনারা যোগাযোগ করে কোয়ারানটিনে যান। সুস্থ হয়ে যাবেন।”

তবে, ভারতের কেন্দ্রীয় সকোরের দিকে অভিযো’গের সুরে মমতা ব্যানার্জী বলেন, ‘যে সময় নিজামুদ্দিনে ওই অনুষ্ঠান চলছিল, সেই সময় আমাদের চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল, দেশে এমিডেমিকের মতো অবস্থা নেই করোনার জন্য।’ আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমরা আগে জানলে ভাল হত। দেরিতে জেনেছি।’ শুধু তাই নয়, মঙ্গলবার নিজামুদ্দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ কমিশনার-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

সেই বৈঠকেই নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়। ধর্মীয় সংগঠন তাবলীগ জামাতের হেডকোয়ার্টার দিল্লির নিজামউদ্দিনে। গত ১৩ থেকে ১৫ মার্চ এখানে তাবিলঘি জামাতের একটি ধর্মীয় সমাবেশ হয়। যেখানে সব রকম সামাজিক দূরত্বের বিধি নিষে’ধ উড়িয়ে একসঙ্গে বাস করছিলেন কয়েকশো মানুষ। এমনকি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মায়ানমারের মতো দেশ থেকেও অনেকে অংশ নেন। ইতোমধ্যেই এই সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর করোনায় আক্রা’ন্ত হয়ে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ জনের শরীরে মিলেছে করোনা। সূত্র : এই সময়