করোনা প্রতিরোধে নতুন এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর?

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইতিমধ্যে চীন, ইংল্যান্ড এমনকি যুক্তরাষ্ট্রেও ‘ব্লাড ট্রান্সফিউশন’ পদ্ধতির প্রয়োগ চলছে। এটি অনেকাংশেই সাফল্য এনে দিয়েছে বলে দাবি চিকিৎসকদের।

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে যখন স্প্যানিশ ফ্লু হয়, তখন থেকে মহামারীর সময়ে রক্ত ট্রান্সফিউশনের পদ্ধতি প্রচলিত। ভারতেও স্প্যানিস ফ্লু থেকে শুরু করে টিটেনাস এমনকি বিড়াল-কুকুরে মারাত্মকভাবে কামড়ালেও এভাবে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।

কী এই পদ্ধতি?

কোনো রোগে কেউ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠলে তার শরীরে সেই রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায়। তাই ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর সেরে ওঠা কোনো ব্যক্তির রক্তের প্লাজমা প্রথমে সংগ্রহ করা হয়। সেই প্লাজমা থেকে নানা প্রক্রিয়ায় সেরাম আলাদা করা হয়। ওই সেরামেই অ্যান্টিবডি থাকে।

তা থেকে নানা রকম ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। সেই ভ্যাকসিন দেয়া হয় অসুস্থ মানুষের শরীরে। তখন সেই বাইরে থেকে প্রবেশ করানো অ্যান্টিবডির সাহায্যে আক্রান্ত লড়তে পারেন ভাইরাসের সঙ্গে। এ পদ্ধতিতেই করোনা আক্রান্তদের সারিয়ে তোলার পথে নামতে চাইছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের বিখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, শরীরে যখন কোনো ভাইরাস আক্রান্ত করে, তখন রক্তের প্লাজমায় কিছু অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ওই অ্যান্টিবডিগুলোই ‘ফরেন বডি’ বা ভাইরাসটির সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে।

তিনি বলেন, স্প্যানিশ ফ্লু থেকে শুরু করে টিটেনাস এমনকি মারাত্মকভাবে বিড়াল-কুকুরে কামড়ালেও এভাবে চিকিৎসা করা হতো। তবে করোনার বেলায় এখনও এ দেশে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়নি। হলে ফল ভালো হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠার পর রক্ত দিলে কোনো সমস্যা হয় না।

এক ইউনিট রক্ত গড়ে ৫২৫ মিলি থেকে ২০০-২৫০ মিলি প্লাজমা পাওয়া যায়। একজন করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা মানুষের এক ইউনিট রক্ত থেকে দুই ইউনিট প্লাজমা পাওয়া যায়। এক ইউনিট প্লাজমায় সেরে উঠতে পারেন ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা