করোনার ৫ উপকারীতা

করোনাভাইরাস মহাআত’ঙ্কের একটি নাম। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীতে রূপান্তর হয়েছে। বাংলাদেশেও করোনা আতঙ্ক মানুষের মাঝে প্রবলভাবে ডালপালা মেলেছে। সরকারী নির্দেশে দেশে এখন ১০ দিনের সাধারণ ছুটি চলছে। সেই ছুটি আরও ৭দিন বাড়ানো হয়েছে।

করোনা নিয়ে মানুষ ‍উ’দ্বিগ্ন। একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে তারা ভাবছে, আরেকদিকে অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দরিদ্র এবং নিম্নআয়ের মানুষদের নাভিশ্বাসে উঠে গেছে। আগামী দিনগুলোতে তারা কীভাবে চলবে, কীভাবে তাদের দুইবেলা খাবার জুটবে- এ নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু এই দু’র্ভাবনা এবং মহাসং’কটের মধ্যেও আমরা আশাবাদী হতে চাই। করোনা সংকটের কারণে ৫টি বিষয়ে আমরা উপকারীতা পেয়েছি। আসুন দেখে নেওয়া যাক এই উপকারীতা পাওয়ার বিষয়গুলো আসলে কি-

সড়ক দু’র্ঘটনা কমেছে

বাংলাদেশে সড়ক দু’র্ঘটনা আরেক ম’হামারীর নাম। প্রতিদিন সড়ক দু’র্ঘটনায় যে পরিমাণ মানুষ মা’রা যায়, তার হিসেব করতে গিয়ে আমাদের ব্যথিতই হতে হতো। ঘর থেকে বের হলেই মানুষ সর্বদা একটি অজানা শ’ঙ্কার মধ্যে থাকতো যে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবো কিনা, সড়কে কোনো দানব বাহন তার প্রাণ কেড়ে নেবে কিনা! কিন্তু করোনাভাইরাসের সুবাদে দেশে এখন সাধারণ ছুটি চলছে, এই ছুটির কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমে গেছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় সড়ক দুর্ঘ’টনায়। সেই দুর্ঘটনা কমে যাওয়ার কারণে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনার সেই হৃ’দয়বিদা’রক, ম’র্মান্তিক খবরগুলো শুনতে হচ্ছে না আমাদের। এটা কি কম স্বস্তির কথা?

শব্দদূষণ কমেছে

রাস্তাঘাট, বিশেষ করে ঢাকার রাস্তায় বেরোনো মানে তী’ব্র হর্নের শব্দ, হৈ চৈ, চেচামেচি। যার ফলে দেখা যাচ্ছে যে বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের একটি অংশ শ্রবণ-প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে। গত কয়দিনে করোনাভাইরাসের কারণে দেশে যান চলাচল সীমিত। তাই শব্দদূষণ কমেছে, এমনকি ঘরে থাকলেও চারপাশের আওয়াজ-হুল্লোড়ে অস্থির হয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন সেই শব্দদূষণের অস্থিরতাও কমে গেছে।

বায়ুদূষণ সহনীয় মাত্রায়

বাংলাদেশে বায়ুদূষণ ছিল নজিরবিহীন। বিশ্বের মধ্যে ঢাকা মহানগরী ছিল দূষণের শীর্ষ শহরগুলোর একটি। করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকাবাসী কিছুদিনের জন্য যেন নির্মল বাতাস পাচ্ছেন। বায়ুদূষণের এই সহনীয় মাত্রাও করোনাভাইরাসের একটি উপকারীতা বলেও মনে করেন অনেকে।

নোংরা শহরে শ্রী ফিরেছে

আমাদের প্রিয় শহরটাকে আমরা প্রতিদিন নোংরা করে ফেলি। দু’র্গন্ধ, যত্রতত্র আ’বর্জনা ফেলার কারণে ঢাকা শহর ছিল যেন একটা ডাস্টবিনের শহর। এই সাধারণ ছুটিতে লোকজন ঘরে বসে থাকার কারণে ঢাকা শহরে যেন অনেকটা শ্রী ফিরেছে। নোংরা আবর্জনা খানিকটা হলেও কমেছে। এটাও বড় একটি উপকারীতা যেটা মানুষ এই করোনাভাইরাসের কারণে পেয়েছে।

বাঙালির পরনিন্দা পরচর্চা কমেছে

সামাজিকভাবে মে’লামেশা মানেই বাঙালির আড্ডা, আর এই আড্ডা মানেই অন্যকে নিয়ে পরনিন্দা, অন্যকে নিয়ে কুৎসা রটানো। করোনাভাইরাসের কারণে সেই আড্ডাবাজি কমেছে, সেই সঙ্গে পরকে নিয়ে চর্চার পরিমাণও কমেছে। এটাও তো কম ইতিবাচক বিষয় নয়। মানুষ এখন অফিস আদালতে এবং চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছে না, অন্যের মুণ্ডুপাত বা সমালোচনা করছে না। এটাও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অন্যতম একটি উপকারীতা বলে মনে করেন সমাজ বিশ্লেষকরা।

তবে এই উপকারীতাগুলোর চেয়েও আমরা করোনার ম’হামারীগুলো থেকে মুক্তি চাই। আমরা চাই যে আমাদের অর্থনীতি যেন মন্দার মুখে না পড়ে, বাংলাদেশ যেন আবারো কর্মচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে।