‘আগস্ট’কেই টার্গেট করেছেন খালেদা

বেগম খালেদা জিয়া গত ২৫ মার্চ বিশেষ বিবেচনায় ৬ মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা এবং তাঁর পারিবারিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া আর কারাগারে ফিরে যেতে চাননা। ৬ মাস অনেক দীর্ঘ সময়, এই ৬ মাসে বাংলাদেশে অনেক কিছুই ঘটবে এবং তাঁরা আশাবাদী যে, এমন একটি পরিস্থিতি ঘটবে যেখানে হয়তো বেগম খালেদা জিয়াকে আর কারাগারে ফিরে যেতে হবেনা।

আগস্ট মাস বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং শোকাবহ মাস। শুধুমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে নিহত হয়েছিলেন-এই কারণেই আগস্ট মাস শোকাবহ নয়, আমরা যদি একটু ইতিহাস বিশ্লেষণ করি, তাহলে দেখবো যে আওয়ামী লীগের উপর বিভিন্ন সময় বড় বড় আ’ঘাতগুলো এসেছে মূলত আগস্ট মাসকে ঘিরেই। আময়া ১৫ আগস্টের কথা জানি, আমরা ২১শে আগস্টের গ্রে’ণেড হামলার কথা যদি বলি, সেই হা’মলাও ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে খুব করার একটি পরিকল্পিত পরিকল্পনা।

আমরা জানি যে, ১৭ আগস্টে সারাদেশে একযোগে বো’মা হা’মলা করেছিল মৌলবাদী জ’ঙ্গিরা। সেটাও ছিল অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি তথা আওয়ামী লীগকে নি’র্মূল করার জন্যই। অর্থাৎ আগস্ট মাস এলেই বাঙালি যেমন শোকে বিহ্বল হয়ে পড়ে, অন্যদিকে এই আগস্ট মাসে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। কারণ স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল এবং ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এই আগস্ট মাসকে টার্গেট করে অসাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধের চে’তনার স্বপক্ষের একমাত্র দল আওয়ামী লীগকে এই মাসেই টা’র্গেট করে। আর আওয়ামী লীগকে টার্গেট করা মানেই হলো শেখ হাসিনাকে টার্গেট করা। বাংলাদেশের রাজনীতি গতিপ্রকৃতি আচমকাই অস্থির এবং অস্বস্তিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। যে আওয়ামী লীগ টানা ১১ বছর ধরে দেশ পরিচালনা করেছে এবং জনগণের মধ্যে বিপুল আস্থা অর্জন করেছে। জনগণ বিশ্বাস করে যে আওয়ামী লীগের দ্বারাই সত্যিকারের উন্নয়ন হয়, বিশেষ করে শেখ হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস আগের যেকোন সময়ের থেকে অনেক দৃঢ়ভাবে পতিত হয়েছে, ঠিক তখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বকে এই করোনা ভাইরাসের তা’ণ্ডব মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তবে সারাবিশ্বে যেমন করোনাভাইরাসের তা’ণ্ডব মোকাবেলার ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলগুলো একাট্টা হয়েছে, সব রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের পাশে এসেছে, বাংলাদেশের ব্যাপারটা তা নয়। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে একটি ঘরনা রাজনৈতিক দল যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে, বংলাদেশকে বিশ্বাস করে যার নেতৃত্বে আছে আওয়ামী লীগ এবং এর সঙ্গে রয়েছে নানা ছোট-বড় রাজনৈতিক দল। আর আরেকটি ঘরনার রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা বাংলাদেশে অস্তিত্বে বিশ্বাস করেনা, যারা বাংলাদেশকে আরেকটি পাকিস্তান বানাতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী, যারা স্বাধীনতাবিরোধীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়েছিল- সেই দলের নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন তাঁদের মূল নেতা। বেগম খালেদা জিয়া অনুগত ভৃত্যের মতো ঘরে বসে থাকবেন এবং জামিনের মেয়াদ শেষে সুড়সুড় করে আবার কারাগারে ফির যাবেন- এটা যারা মনে করেন তাঁরা বোকার স্বর্গে বসবাস করেন। এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া অনেক কিছুই করার চেষ্টা করবেন এবং অনেককিছু করার একটি প্রাথমিক সুযোগ তাঁর সামনে চলে এসেছে।

বাংলাদেশে যে করোনার প্রকোপ, এই করোনার প্রকোপের কারণে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী করেছেন। আর মন্দার কারণে বাড়বে বেকারত্ব, জনমনে অসন্তোষ। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইবেন বেগম খালেদা জিয়া। কাজে লাগিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা বা সরকার উৎখাতে সিদ্ধহস্ত বিএনপি তাই এই আগস্ট মাসকে ঘিরেই নকশা করছে তা সহজ সরল মনেই অনুধাবন করা যায়। কারণ আর কিছুদিন পরেই বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে রমযান মাস এবং মে মাসে ঈদ। ঈদের পর আবার কোরবানি ঈদে সবাই ব্যস্ত থাকবে।

আমাদের করোনার ব্যপকতা যেভাবে বিশেষজ্ঞরা অনুধাবন করছেন, তাতে এই অবস্থা জুন মাসের আগে শেষ হবার সম্ভাবনা কম। এর আগেই অ’স্থিরতাগুলো বাড়তে পারে, অর্থনৈতিক ম’ন্দার কারণে জনঅস’ন্তোষ বাড়তে পারে। এইসবকে কাজে লাগিয়ে আগস্ট মাসেই কিছু করার পরিকল্পনা কি বেগম খালেদা জিয়া করছেন? রাজনীতিতে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, প্রতিপক্ষকে কখনো দুর্বল বা খাটো মনে করতে নেই। বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মতো রাজনীতিবিদকে তো নয়ই। তাই বিশেষ করে সরকার বেগম খালেদা জিয়া বা বিএনপির ষ’ড়যন্ত্র নিয়ে কতটুকু সচেতন তা নিয়ে অনেকের মাঝে সন্দেহ রয়েছে। তাই এখন থেকেই সরকারকে একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলা করতে হবে, অন্যদিকে তাঁদেরকে রাজনৈতিক অ’স্থিরতা যেন তৈরি না হয়, কেউ যেন গু’জব ছড়িয়ে ভী’তিকর পরিবেশ না সৃষ্টি করতে পারে- সেদিকেও নজর দিতে হবে।